আজব ঠোঁটের পানিকাটা পাখি
Printed Edition
মো: আবদুস সালিম
পাখির নাম ‘পানিকাটা’; অপর নাম ‘গাঙচষা’। ‘পানিকাটা’ নাম হওয়ার কারণ হচ্ছে, এরা নদ-নদী বা গাঙের পানি মাড়িয়ে মাছ, জলচর পাখি ইত্যাদি শিকার করে খায়।
এ পাখির ইংরেজি নাম স্কিমার (Skimmer) বা ইন্ডিয়ান স্কিমার (Indian skimmer). এর বেজ্ঞানিক নাম জুহপযড়ঢ়ং. এটি একটি আজব ঠোঁটের অধিকারী জলচর পাখি। নিচের ঠোঁট উপরের ঠোঁটের তুলনায় বেশি বড়; দেখতে কিছুটা কাঁচির মতো লাগে।
পানিকাটা দক্ষিণ এশিয়ার আবাসিক পাখি। এ পাখি এ অঞ্চলে প্রায় সব সময়ই কমবেশি দেখা যায়। তবে বাংলাদেশে এদের বেশি দেখা যায় শীত মৌসুমে। বিশাল ঝাঁকে ঘুরে বেড়ায় বড় নদ-নদীগুলোর আশেপাশে ও নির্জন চর এলাকায়। কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম প্রভৃতি দেশে একসময়ে এদের দেখা গেলেও এখন আর প্রায় দেখা নেই। অনেকের ধারণা, ওই দেশগুলোতে এ পাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে, কিংবা কোনো কারণে অন্যত্র পাড়ি জমিয়েছে। নানান প্রতিকূল কারণে এরা এখন বিশ্বে ‘প্রায় বিপন্ন’। তবে ভালো খবর হলো, এ পাখির সংখ্যা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশেই বেশি।
এটি মাঝারি আকারের সাদা-কালো পাখি। দৈর্ঘ্য প্রায় ৪২ সেন্টিমিটার। ডানা প্রায় ৩৮ সেমি, লেজ প্রায় ১১ সেমি। প্রজননের সময় পিঠ কালচে-বাদামি রঙের হয়। দেহের নিচটা ফকফকে সাদা। গলাবন্ধ ও কপাল সাদা। মাথার চাঁদি কালো। ঘাড়ের পেছনের দিক, কাঁধ, ডানা ও লেজের উপরের দিকটা কালো। চোখ উজ্জ্বল বাদামি। ঠোঁট লম্বা ও এর গোড়া উজ্জ্বল বা টকটকে লাল। তবে ঠোঁটের আগা হলুদ। দেহের তুলনায় পা খাটো। উজ্জ্বল ছোট ছোট দাগ রয়েছে পা ও পায়ের পাতায়। দেখতে প্রায় একইরকম স্ত্রী ও পুরুষ পানিকাটারা। দীর্ঘ সময় এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে অভ্যস্ত। এরা বেশি কর্মচঞ্চল হয়ে ওঠে ভোর ও সন্ধ্যায়। পানিকাটার প্রজননকাল জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত। এ সময়ে এরা বড় নদ-নদীর বালুচরে গর্ত করে বাসা বানায়। তাতে ডিম পাড়ে ৩-৪টি করে। ডিমে তা দেয় দিনের শীতল সময়ে। অন্য সময়ে এরা ঘুরতে বের হয়। সেই সুযোগে শিকারি প্রাণীরা এসে এদের ডিম-ছানা খেয়ে ফেলে। এতে করে এদের প্রজনন কমছে। সেই হিসেবে ৩-৪টি ডিম থেকে ছানা হয় গড়ে প্রায় একটি। ডিম থেকে ছানা বের হতে সময় লাগে ৩-৪ সপ্তাহ।