ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা উদ্বোধন

বাণিজ্যমেলা একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি : বাণিজ্য উপদেষ্টা

Printed Edition
first 2
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন গতকাল ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার উদ্বোধন করেন : পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক ও রূপগঞ্জ সংবাদদাতা

বাণিজ্যমেলা একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা একটি দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও গতিশীল করে তোলে।

৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার উদ্বোধনকালে এসব

মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিগ ওয়েভ) এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ। বক্তব্য রাখেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান ও এফবিসিসিআইর প্রশাসক এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: আবদুর রহিম খান।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, বাণিজ্যমেলা শুধু পণ্য প্রদর্শনের ক্ষেত্র নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি। রফতানি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা একটি দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও গতিশীল করে তোলে। এ মেলায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার সমারোহ ঘটে। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশ ও প্রতিষ্ঠানের পণ্যেরও উপস্থিতি থাকে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা আরো বলেন, এ মেলার মাধ্যমে এক দিকে যেমন দেশজ পণ্যসামগ্রীকে বিদেশী ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়, অন্য দিকে প্রদর্শিত বিদেশী পণ্যের গুণ ও মান সম্পর্কে এ দেশের ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীরা ধারণা লাভ করেন।

এ সময় বাণিজ্য উপদেষ্টা নতুন বছরে পেপার ও প্যাকেজিং পণ্যকে বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। একই সাথে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা দেশের ইতিবাচক ভাবমর্যাদা উন্নয়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ ও দেশের ব্র্যান্ড ইমেজকে আরো সমৃদ্ধ করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, প্রতি বছর রফতানিতে অবদান ও সম্ভাবনার বিষয় বিবেচনাক্রমে বিভিন্ন পণ্য খাতকে যথাক্রমে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত ও বিশেষ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া রফতানি প্রসার ও প্রণোদনামূলক কর্মকাণ্ডকে বেগবান করতে প্রতি বছর একটি পণ্যকে প্রডাক্ট অব ইয়ার হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘোষিত পণ্যের উৎপাদন বিপণনে উৎসাহিতকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়। এবার পেপার এবং প্যাকেজিং প্রডাক্টকে ২০২৬ সালের প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার হিসেবে ঘোষণা করছি।

তিনি বলেন, এই বাণিজ্যমেলা দেশের ব্যবসাবাণিজ্যের ইতিহাসে শুধু একটি নিছক প্রদর্শনী নয়, এটি দেশের নতুন নতুন উদ্যোগ-উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিক উন্নয়নের প্রদর্শনী। পণ্যের বহুমুখীকরণ ও নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ, বাজার সংযোগ তৈরি করে এই মেলা। দেশের ইতিবাচক ভাবমর্যাদা উন্নয়ন ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতেও অবদান রয়েছে এই মেলার। এসব মেলার মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্র্যান্ড ইমেজ শক্তিশালী হয়। দেশের সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।

তিনি আরো বলেন, ডিসেম্বরে দেশে প্রথমবারের মতো গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো অনুষ্ঠিত হয়েছে, এর মাধ্যমে দেশী-বিদেশী পর্যটক, দর্শনার্থী ও আমদানিকারকদের কাছে দেশের উৎপাদন রফতানি সক্ষমতার বিশেষ পরিচিতির পথ সুগম হয়েছে। বছরে এক বা একাধিক এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে। বাণিজ্যমেলায় উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্যোক্তারা তাদের সেবার গুণগত মান প্রদর্শন করতে পারেন। ক্রেতাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ, বাজারচাহিদা বিশ্লেষণ, দরকষাকষি ও অর্ডার গ্রহণের মাধ্যমে তারা বাস্তব বাণিজ্যিক সুফল অর্জন করেন।

তিনি বলেন, উদ্যোক্তারা এই মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাজার সম্পর্কে ধারণা লাভ, আন্তর্জাতিক মান ও প্রযুক্তি এবং পণ্য উন্নয়নের সুযোগ পাবেন। আমি আশা করি, উদ্যোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাণিজ্যমেলাকে সফল করে তুলবে ও দেশের রফতানি প্রবৃদ্ধিতেতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ ও বিশ্বের সব দেশের সাথে বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক জোরদার করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মেলাটি মাসব্যাপী সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে। বাংলাদেশ ছাড়াও আরো ছয়টি দেশের (ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়া) মোট ১১টি প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে।

এবারের বাণিজ্যমেলায় অনলাইনে বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল/ প্যাভিলিয়ন স্পেস বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মেলায় ই-টিকিটিং (অন-স্পট টিকিট ক্রয় ব্যবস্থার পাশাপাশি অনলাইনে টিকিট ক্রয়পূর্বক কিউআর কোড স্ক্যান করে মেলায় প্রবেশ)-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিসের পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে কনসেশনাল রেটে পাঠাও সার্ভিস।

এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে। এ ছাড়া তারুণ্যের শক্তি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে মাসব্যাপী মেলায় থাকছে সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন আয়োজন।