প্রাথমিকের ৯৬ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইনে অংশ নিতে পারবে না
সরকারের পরিকল্পনায় সাড়া মিলছে না
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্তে সাড়া মিলছে না। বিশেষ করে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ৯৬ শতাংশই অনলাইনে ক্লাস করতে আগ্রহী নয়। শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী এই ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাসে যুক্ত করলেও তাদের শিখন ফলাফল কাজে আসবে না। গতকাল বুধবার মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের মহানগর এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইন ও সশরীরে ক্লাস চালুর বিষয়ে আলোচনা করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পাশাপাশি প্রাথমিকেও এ পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে। তবে অনলাইনে ক্লাস করতে চান না প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক নেতাদের সাথে আলোচনা সভায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী অনলাইন ক্লাসের পরিকল্পনার কথা জানান। তবে এ সময় শিক্ষকরা প্রাথমিকে অনলাইন ক্লাস নেয়া কষ্টসাধ্য বলে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। আলোচনাসভা শেষে একাধিক শিক্ষক জানান, অনলাইনে ক্লাস চালু করা এটা ফলপ্রসূ হবে না । তারা নতুন করে মর্নিং শিফটে ক্লাস নেয়া যেতে পারে বলে প্রস্তাব দেন। শিক্ষকরা বলেন, করোনাকালীন অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি ৪ শতাংশ শিক্ষার্থীও যুক্ত করতে পারিনি। বাকি ৯৬ শতাংশ শিক্ষার্থী ছিল ক্লাসের বাইরে।
আলোচনাসভা সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী প্রাথমিকভাবে ছয় দিন ক্লাস রেখে এর মধ্যে জোড়-বেজোড় মিলিয়ে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীর পাঠদানের পরিকল্পনার কথা জানান। অর্থাৎ শনিবার যদি অনলাইন ক্লাস হয়, তাহলে রোববার অফলাইন ক্লাস হবে। এভাবে একদিন অনলাইন ক্লাস হলে তার পরদিন সশরীর ক্লাসের পরিকল্পনা করা হয়েছে। মন্ত্রীর এমন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার পর শিক্ষকরা অনলাইন ক্লাসের নানা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন। তারা জানান, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা ডিভাইস ব্যবহার করতে জানে না। অনেক পরিবারের পক্ষে শিশু শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে যুক্ত করা সম্ভব হবে না। এ সময় শিক্ষকদের অনেকে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর কাছে অনলাইন ক্লাসের জন্য ডিভাইসের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।