বিসিএসে টেক্সটাইল ক্যাডার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করবে সরকার : শিক্ষামন্ত্রী
Printed Edition
বুটেক্স প্রতিনিধি
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস) টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের জন্য আলাদা ক্যাডার চালুর দাবিটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি এই খাতের প্রকৌশলীদের ন্যায্য দাবিটি যৌক্তিক এবং এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করবেন। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (৫২তম ব্যাচ) নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বস্ত্র প্রকৌশলীদের দেশের তৈরী পোশাক শিল্পের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তৈরী পোশাক রফতানিকারক দেশ। এই অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় ও টেকসই করতে ভবিষ্যৎ বস্ত্র প্রকৌশলীদের শিক্ষা ও গবেষণার ওপর জোর দিতে হবে। অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ও নেতৃত্ব গুণাবলি অর্জনের আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বুটেক্সের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গবেষণাকেন্দ্র নির্মাণ এবং ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবনের কাজ দ্রুত শুরু হবে এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে টেক্সটাইল ও তৈরী পোশাক খাত থেকে। বুটেক্সের গ্র্যাজুয়েটদের শতভাগ কর্মসংস্থানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আধুনিক গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং টেক্সটাইল ক্যাডার চালুর বিষয়ে তিনি সরকারের উচ্চপর্যায়ে জোর প্রচেষ্টা চালাবেন।
সভাপতির বক্তব্যে বুটেক্সের ভিসি অধ্যাপক ড. মো: জুলহাস উদ্দিন নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা ও সহশিক্ষাকার্যক্রমে অংশ নেয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বুটেক্সের লক্ষ্য শুধু দেশীয় শিল্পের জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম ‘গ্লোবাল গ্র্যাজুয়েট’ তৈরি করা। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রকৌশলী মো: শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, শাহাদত হোসেন বিপ্লব, প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ (সেলিম) এবং প্রকৌশলী মো: এনায়েত হোসেনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। ওরিয়েন্টেশনের দ্বিতীয় পর্বে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কারিকুলাম, পরীক্ষাপদ্ধতি, ডিসিপ্লিন ও ভবিষ্যৎ পেশাগত সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেয়া হয়।