জাল কাগজপত্রে ৩৮ কোটির শুল্ক ফাঁকি চট্টগ্রামে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

জালিয়াতির মাধ্যমে রফতানির ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে বন্ড সুবিধায় টাইলস আমদানি

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বন্ড সুবিধার আওতায় টাইলস আমদানি করে তা রফতানি না করে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার সকালে দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি দায়ের করেন সংস্থাটির ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর সহকারী পরিচালক ধীরাজ চন্দ্র বর্মন।

মামলায় প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সহযোগী ব্যক্তি এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন হাসান শরিফ, মো: জিয়া উদ্দিন, খাজা শাহাদতউল্লাহ, মো: জিয়াউর রহমান, আদিল রিজওয়ান, মো: খায়রুজ্জামান, মো: শহিদুল হক, হাসান শাহীন, দীপান্বিতা বড়ুয়া ও সুরীত বড়ুয়া।

দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর উপপরিচালক সুবেল আহমেদ জানান, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে আসামিরা জালিয়াতির মাধ্যমে রফতানির ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে বন্ড সুবিধায় চীন থেকে টাইলস আমদানি করে ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ ৪৮ হাজার ১০০ টাকা ৪৭ পয়সা শুল্ক ফাঁকি দিয়েছেন।

অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ড বিধির ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪২০ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগঁাঁও থানা এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ-তাইওয়ান সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ২০১৩ সালে শতভাগ রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বন্ড লাইসেন্স গ্রহণ করে। ২০১৩ সাল থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ৬২টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ‘আনফিনিশড টাইলস’ ঘোষণা দিয়ে ২২ হাজার ৯৪৩ দশমিক ৬৫ মেট্রিকটন টাইলস আমদানি করে।

তবে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত সংস্থার অনুসন্ধানে দেখা যায়, আমদানি করা পণ্যগুলো প্রকৃতপক্ষে সম্পূর্ণ প্রস্তুতকৃত (ফিনিশড) টাইলস।

এজাহারে আরো বলা হয়েছে, আমদানিকৃত টাইলস প্রক্রিয়াজাত করে শতভাগ রফতানির বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি ৮০টি বিল অব এক্সপোর্ট দেখিয়ে রফতানির কাগজপত্র দাখিল করে। ব্যাংকের মাধ্যমে রফতানি মূল্য দেশে এসেছে এমন তথ্যও উপস্থাপন করা হয়।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট অফ-ডক কর্তৃপক্ষ ও শিপিং এজেন্টরা লিখিতভাবে জানায়, তাদের মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো রফতানি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি এবং দাখিল করা বিল অব লেডিং তাদের ইস্যুকৃত নয়।

এ ছাড়া চালান পরীক্ষণের দায়িত্বে থাকা দুই রাজস্ব কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তাদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে এবং তারা সংশ্লিষ্ট চালান পরীক্ষা করেননি।