শ্রীপুরে ১১ বছরের বকেয়া বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন শিক্ষক পরিবারের
Printed Edition
শ্রীপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার এক মাদরাসা শিক্ষক দীর্ঘ ১১ বছর ধরে বকেয়া বেতন-ভাতা না পেয়ে পরিবারসহ মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কাজলী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক মুনসী মো: নাসিরুল ইসলাম এ পরিস্থিতির শিকার বলে জানা গেছে।
তথ্যানুসন্ধান ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মিনা মাসুদ উজ্জামান। সে সময় স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ওই অভিযোগের অংশ হিসেবে দৈনিক নয়া দিগন্তের উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষক মুনসী মো: নাসিরুল ইসলাম একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
এর পরপরই সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযোগ বা মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সুপারিশ ছাড়াই ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর যাচাই-বাছাই ছাড়াই তার এমপিও বাতিল করে। একই সাথে চাকরিজীবনের আগে উত্তোলিত প্রায় পাঁচ লাখ ৪০ হাজার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
এ অবস্থায় মুনসী নাসিরুল ইসলাম হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট প্রথমে চার মাসের জন্য ওই আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। পরে বিবাদীপক্ষ জবাব না দেয়ায় রিটের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এমপিও বাতিলের আদেশের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।
পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করা হলেও তা খারিজ হয়ে যায়। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২২ সালের ২৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট শিক্ষক নাসিরুল ইসলামের পক্ষে ‘রুল অ্যাবসোলিউট’ ঘোষণা করেন।
আদালতের রায়ের ভিত্তিতে ২০২৩ সালে তাকে স্বপদে পুনর্বহাল করা হলেও ১১ বছরের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়নি। কেবল ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তার এমপিও আবার চালু করা হয়। পরে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি তিনি অবসরে যান। অবসরের পর একাধিকবার আবেদন করেও বকেয়া অর্থ পাননি বলে জানান তিনি।
শিক্ষক নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে চাকরি ফিরে পেলেও বকেয়া বেতন না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে আছি। দুই সন্তান পড়াশোনা করছে, সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’ তিনি বকেয়া বেতন-ভাতা দ্রুত পরিশোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।