বিমানের হ্যাঙ্গারে ২টি ড্যাশ-৮ গ্রাউন্ডেড, চীনে চেকিংয়ে গেছে বোয়িং-৭৭৭
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে রুটের বিপরীতে উড়োজাহাজ স্বল্পতা দীর্ঘদিনের। প্রয়োজনীয় উড়োজাহাজ না থাকায় ফ্লাইট পরিচালনায় অপারেশনাল প্ল্যান তৈরিতে অনেক সময় হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। এ অবস্থার মধ্যেই বহরে থাকা ১৯ উড়োজাহাজের মধ্যে বর্তমানে সচল রয়েছে ১৬টি। বাকি তিনটির মধ্যে আবার দু’টি ড্যাশ-৮ দীর্ঘদিন ধরে বিমানের হ্যাঙ্গারে গ্রাউন্ডেড হয়ে পড়ে আছে। এ ছাড়া চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ই-আর এর মধ্যে নিয়মিত চেকের উদ্দেশ্যে একটিকে চীনে পাঠানো হয়েছে।
বিমানের বলাকা ভবন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে যে ১৬টি উড়োজাহাজ দিয়ে কানাডা, লন্ডন, রোম, সৌদিসহ বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে সেসবের মধ্যেও কিছু ফ্লাইট আবহাওয়াসহ নানা কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্য ছেড়ে যেতে পারছে না। এতে দেশ বিদেশের বিমানবন্দরে যাত্রী ও তাদের রিসিভ করা ও বিদায় জানাতে আসা লোকদের ভোগান্তি হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকৌশল শাখায় যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্টরা নয়া দিগন্তকে জানান, বিমানের বহরে মোট ১৯টি এয়ারক্রাফট আছে। এর মধ্যে পাঁচটি বোম্বাডিয়ার কোম্পানির তৈরি ড্যাশ-৮ আছে। তার মধ্যে দু’টি ড্যাশ-৮ অনেক দিন ধরে হ্যাঙ্গারে পড়ে আছে। কী কারণে এই এয়ারক্রাফট দু’টি সচল হচ্ছে না তা নিয়ে রয়েছে বিমান ম্যানেজমেন্টের অনেক প্রশ্ন। তবে এই দু’টি এয়ারক্রাফট অচল থাকায় বিমানের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। তারা বলেন, বিমানের বহরে সার্ভিসেবল চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিভিন্ন রুটে চলছে। তবে চারটির মধ্যে একটিতে সমস্যা দেখা দেয়ায় সেটিকে (বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর) গত বুধবার (আলফা, এসটু-এএইচএম) নিয়মিত চেকের জন্য চীনে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া বহরে বোয়িং কোম্পানির ৭৮৭-৮০০ ড্রিমলাইনার মডেলের চারটি এবং ৭৮৭-৯০০ মডেলের দু’টি এয়ারক্রাফট সচল রয়েছে। বর্তমানে ১৬টি এয়ারক্রাফট দিয়ে বিশ্বের ২১টি রুটে যাত্রী সেবা দেয়া হচ্ছে। এই বহর দিয়েই নতুন করে শুরু হতে যাওয়া জাপানের ঢাকা-নারিতা রুটের ফ্লাইট চালানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যার আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার সোহেল আহমেদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি টেলিফোন ধরেননি। পরে বিমানের জেনারেল ম্যানেজার (জনসংযোগ) ও মুখপাত্র বোসরা ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। তিনিও টেলিফোন রিসিভ করেননি।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনাল সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-কুয়েত রুটে বিমানের ফ্লাইট চলাচল আপাতত যুদ্ধের কারণে বন্ধ রয়েছে। জাপানের নারিতা রুটে ফ্লাইট চালানোর জন্য পারমিশন পাওয়া গেছে।
গতকাল রাতে বিমানবন্দর টার্মিনালের একজন কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেন, ঢাকা থেকে প্রতিদিন বিমানের যেসব রুটে ফ্লাইট ছেড়ে যাচ্ছে তার মধ্যে কোনো ফ্লাইট বিলম্বের কারণে ছাড়েনি এমন অভিযোগ খুব কম। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিলম্ব যে হচ্ছে না, তা কিন্তু নয়। সেটি কখনো যাত্রীদের বোর্ডিং পাশ পেতে, আবার কখনো যাত্রী জ্যামে রাস্তায় থাকার কারণে ২-৫ মিনিট সময় এদিক ওদিক হচ্ছে।
গতকাল রাতে একজন এভিয়েশন এক্সপার্ট নয়া দিগন্তকে বলেন, বিমানের বহরে মোট ১৯টি এয়ারক্রাফট আছে। তার মধ্যে তিনটিই টেকনিক্যাল। ১৬টি এয়ারক্রাফট দিয়ে কানাডা, লন্ডন, রোম, সৌদির চারটি রুট, নেপাল, ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াসহ মোট ২১টি রুট পরিচালনা করা খুবই জটিল সমীকরন। তারপরও এই এয়ারক্রাফট দিয়েই ফ্লাইট প্ল্যান সাজিয়েছে এর জন্য তাদের ধন্যবাদ। তিনি বলেন, আমার মতে, বিমানের বহরে দু’টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ড্রাই লিজে দ্রুত আনা উচিত। তাহলে সুন্দরভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করা যাবে। বাড়বে যাত্রী সেবাও। তিনি বলেন, ড্রাই লিজ হচ্ছে পাইলট কেবিন ছাড়া শুধু উড়োজাহাজ লিজে আনা।