মিরসরাইয়ে ভাইরাসে তরমুজ চাষে বিপর্যয়

Printed Edition
bangla-3
মিরসরাইয়ে ভাইরাস আক্রান্ত একটি তরমুজ ক্ষেত : নয়া দিগন্ত

এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় চলতি মৌসুমে তরমুজ চাষে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। ভাইরাসজনিত রোগ, ভারী বৃষ্টিপাত, ফলন কমে যাওয়া এবং বাজারদর পতনের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চাষিদের কোটি টাকার লোকসান গুনতে হয়েছে। এতে নতুন সম্ভাবনাময় এ ফসল নিয়ে হতাশা নেমে এসেছে কৃষকদের মধ্যে।

উপজেলার ধুম ইউনিয়নের কৃষক নাজমুল আলম প্রথমবার দেড় একর জমিতে তরমুজ চাষ করে বিনিয়োগ করেন দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পুরো ক্ষেতের গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় একটি তরমুজও বিক্রি করতে পারেননি তিনি। নাজমুল বলেন, দিনের বেলায় তীব্র গরম, রাতে কুয়াশা এবং গাছে ভাইরাস সংক্রমণের কারণে ফলন একেবারেই হয়নি। ফলে লাভ তো দূরের কথা, পুঁজিও ওঠেনি।

একই চিত্র উপজেলার কাটাছরা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায়। কৃষক শাহাদাত হোসেন জানান, পাঁচজন মিলে ১০ একর জমিতে তরমুজ চাষে প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয় করলেও বিক্রি হয়েছে মাত্র সাড়ে তিন লাখ টাকার। এতে তাদের প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। তিনি বলেন, ধারদেনা করে চাষে নেমে এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৭৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে। হিঙ্গুলী, ধুম, ওচমানপুর, ইছাখালী, দুর্গাপুর, মিঠানালা, মঘাদিয়া, মায়ানী ও সাহেরখালী ইউনিয়নে গ্লোরি জাম্বু, বেঙ্গল কিং, ড্রাগন কিং ও গ্রিন ড্রাগন জাতের তরমুজ বেশি চাষ হয়েছে। নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে আসা অভিজ্ঞ কৃষকদের দেখাদেখি এবার স্থানীয় অনেক কৃষকও প্রথমবার এ চাষে যুক্ত হন।

কৃষকদের দাবি, একেকজন পাঁচ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছেন। এর বড় অংশই ব্যাংক, এনজিও ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সংগ্রহ করা। কিন্তু গাছে ভাইরাস আক্রমণ, ক্ষেতে পানি জমে যাওয়া, ফলন কম হওয়া, বাজারদর পড়ে যাওয়া এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি ও কৃষকদের জন্য প্রণোদনা নিশ্চিত না হলে আগামীতে তরমুজ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন কৃষকরা।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার তরমুজের আবাদ অনেক বেশি হয়েছে। তবে ভাইরাস সংক্রমণ ও ভারী বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে অনেক কৃষকের ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, যেসব খেতে তরমুজ পরিপক্ব হয়েছে, সেগুলো দ্রুত বাজারজাত করতে পারলে ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হতো।