নাহিদের ফাইফারে সহজ জয় বাংলাদেশের

Printed Edition
first-1
৫ উইকেট নেয়া নাহিদ রানাকে অভিনন্দন সতীর্থদের : ক্রিকইনফো

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মিরপুরের উইকেট কেমন হবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ শুরুর আগেই এটা নিয়ে চলতে থাকে আলাপ-আলোচনা। ব্যাটারদের বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত এই উইকেটে রীতিমতো বোলারদের রাজত্ব দেখা যায়। গতকাল সিরিজের প্রথম ওয়ানডের প্রথম ইনিংসে দেখা গেল তেমন কিছুই। তবে এখানে উইকেটের যতটা না দায়, তার চেয়ে বেশি কৃতিত্ব বাংলাদেশের বোলারদের। টাইগারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে লজ্জার রেকর্ডে নাম লিখিয়েছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়েই বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথমে বল হাতে ধস, এরপর ব্যাট হাতে ঝড়-মিরপুরে এমনই এক ম্যাচ উপহার দিলো বাংলাদেশ। নাহিদ রানার পাঁচ উইকেটে পাকিস্তানকে স্বল্প রানে গুটিয়ে দিয়ে তানজিদ হাসান তামিমের ঝড়ো ইনিংসে দ্রুত ৮ উইকেটের অনায়াস জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা! টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩০.৪ ওভারে সব ক’টি উইকেট হারিয়ে ১১৪ রান তুলে পাকিস্তান। জবাব দিতে নেমে ১৫.১ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে হেসে-খেলে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। আগামীকাল দুই দলের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ। এরপর ১৫ তারিখে শেষ ম্যাচ।

৩০.৪ ওভারে ৭৩ রানে ১০ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ওয়ানডেতে এটাই বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের সবচেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড। এর আগে নর্দাম্পটনে ১৯৯৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ১৬১ রানে অলআউট করেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ পেয়েছিল ৬১ রানের জয়। আর গতকাল পেল ৮ উইকেটের জয়।

আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান ওয়ানডে অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি জানিয়েছিলেন, তিন পাকিস্তানি ক্রিকেটারের অভিষেক হবে। তবে অভিষেক হয়েছে চার পাকিস্তানি ক্রিকেটারের। এরা হলেন সাহিবজাদা ফারহান, শামাইল হুসাইন, মাজ সাদাকাত, আবদুল সামাদ। অভিষিক্ত এই চার ক্রিকেটারের মধ্যে শুধু ফারহানের পাকিস্তানের জার্সি পরার অভিজ্ঞতা আগেও হয়েছে। গতকাল ফারহান-সাদাকাত ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ৬০ বলে ৪১ রানের জুটি গড়েছেন।

ধীরস্থির গতিতে এগোতে থাকা পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে ধসের সূচনা করেন নাহিদ রানা। দশম ওভারের শেষ বলে রানার অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে কাট করতে যান ফারহান। পয়েন্টে সহজ ক্যাচ তালুবন্দী করেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। ৩৮ বলে ৪ চারে ফারহান করেছেন ২৭ রান।

দলীয় ৪৪ রানেই পাকিস্তান হারাতে পারত দ্বিতীয় উইকেট। ১১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মিরাজকে তুলে মারতে যান শামাইল। বল যখন আকাশে তখন লং অফ থেকে দৌড়ে আসছিলেন তানজিদ হাসান তামিম এবং তৌহিদ হৃদয় লং অন থেকে দৌড়ে আসছিলেন। তবে কেউই ক্যাচ ধরতে পারেননি। যদিও দুই রানে জীবন পাওয়া শামাইল আউট হয়েছেন চার রানে। রানার শর্ট পিচ বলে পুল করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের তালুবন্দী হয়েছেন তিনি।

ফারহান-শামাইলের পর শর্ট বলে রানা ঘায়েল করেছেন মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগাকেও। যেখানে সালমানের উইকেটে রানার চেয়ে অবদান বেশি তানজিদ হাসান তামিমের। ১৮তম ওভারের পঞ্চম বলে রানাকে পুল করতে যান সালমান। শর্ট লেগে কয়েকবারের চেষ্টায় বল তালুবন্দী করেন তানজিদ তামিম।

রানার শর্ট বলে ঘায়েল হওয়া পাকিস্তান এরপর মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে ও তাসকিন আহমেদের পেসে মুখথুবড়ে পড়ে। আবদুল সামাদ, হুসেইন তালাত ও শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ফিরিয়েছেন। যেখানে ১৯তম ওভারের শেষ বলে সামাদকে কট বিহাইন্ড করেন মিরাজ। সামাদ রিভিউ নিলে দেখা যায়, ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল চলে গেছে লিটনের গ্লাভসে। শূন্য রানে আউট হওয়ার পাশাপাশি একটা রিভিউও নষ্ট করে গেছেন সামাদ। নাহিদ রানা পাঁচটি, মিরাজ তিনটি, তাসকিন ও মোস্তাফিজ একটি করে উইকেট পান।

১১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই সাইফ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। তবে অপর প্রান্তে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন তানজিদ হাসান তামিম। তার ঝড়ো ইনিংসে দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় স্বাগতিকরা। মাত্র ৩২ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তানজিদ। শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ২৭ রান।

ফলে মাত্র ১৫.১ ওভারেই দুই উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। হাতে ছিল আরো ২০৯ বল। বল হাতে নাহিদ রানার পাঁচ উইকেট এবং ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান তামিমের ঝড়ো ইনিংসেই সিরিজের শুরুটা দাপটের সাথে করল বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-টস বাংলাদেশ

পাকিস্তান : ৩০.৪ ওভারে ১১৪/১০ (সাহিবজাদা ২৭, সাদকাত ১৮, শামিল ৪, রিজওয়ান ১০, সালমান ৫, তালাত ৪, সামাদ ০, ফাহিম ৩৭, আফ্রিদি ৪, ওয়াসিম ০, আবরার ০*; তাসকিন ১/২৯, মোস্তাফিজ ১/১৮, মিরাজ ৩/২৯, নাহিদ ৫/২৪)

বাংলাদেশ : ১৫.২ ওভারে ১১৫/২ (সাইফ ৪, তানজিদ ৬৭*, শান্ত ২৭, লিটন ৩*; আফ্রিদি ১/৩৫, ওয়াসিম ১/২৪)

ফল : বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরা : নাহিদ রানা।