সিন্ডিকেট বিরোধী সদস্যদের সংবাদ সম্মেলন
মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটের নতুন নাম ‘তুরাপের’ ফাঁদে পা না দিতে সরকারকে অনুরোধ
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রিক্রুটের জন্য প্রয়োজনে বাংলাদেশ সরকার তার নিজস্ব সফটওয়্যার সিস্টেম ব্যবহার করবে, তবু সিন্ডিকেটের তৈরি করা নতুন নাম তুরাপের মাধ্যমে করব না। প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ করে বলছি, আমরা যেন কিছুতেই সিন্ডিকেটের হোতাদের পাতানো ফাঁদ ‘তুরাপে’ পা না দেই। কারণ দাতো আমিন ও মোহাম্মদ রুহুল আমিন স্বপনরা বিগত দিনে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট তৈরি করে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেছে। তাদের জিম্মিদশা থেকে এই বাজারটি মুক্ত করে সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্তের দাবি জানাচ্ছি।
গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বায়রার কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মো: মোস্তফা মাহমুদ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, এবার জিরো কস্টে কর্মী রফতানির আড়ালে তারা ২৫টি এজেন্সি নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। ২৫ এজেন্সির বাইরে অন্য কোনো এজেন্সি কর্মী রফতানি করতে পারবে না বলেও সিন্ডিকেটের সদস্যদের তারা শতভাগ নিশ্চয়তা দিচ্ছেন। যারা সিন্ডিকেটের সদস্য হতে আগ্রহী, তাদের কাছ থেকে ১৫ কোটি টাকা অগ্রিম নিচ্ছে বলেও বিভিন্নভাবে শোনা যাচ্ছে। একদিকে তারা সরকারকে জিরো কস্টের কথা বলছে, অন্যদিকে সিন্ডিকেটের সদস্য হতে ১৫ কোটি টাকা নিচ্ছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মোস্তফা মাহমুদ বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে পুরনো পদ্ধতিতে ব্যাপক অনিয়ম ও বদনামের কারণে তারা এবার নতুন সফটওয়্যার তুরাপ ব্যবহার করছে কর্মী আমদানি, টাকা নেয়া ও এজেন্সি নিয়ন্ত্রণে। গ্লোবাল এমপ্লয়মেন্ট ফ্যাসিলিটেশন সেন্টারের নাম দিয়ে একটা ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে তারা এজেন্সি ও কর্মী নিয়ন্ত্রের পরিকল্পনা করছে। তাদের এবার আর্কষণীয় স্লোগান হচ্ছে জিরো কস্টে কর্মী প্রেরণ। তার দাবি, জিরো কস্টে বাজার উন্মুক্ত করা তাদের একটি কৌশল মাত্র। তাদের প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে প্রতিটি কর্মীকে এবার গতবারের চাইতেও টাকা বেশি দিতে হবে। এবার প্রতি কর্মীর জন্য দিতে হবে ছয়-সাত লাখ টাকা করে।
সংবাদ সম্মেলনে মোস্তফা মাহমুদ সরকারের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আপনারা সিন্ডিকেট না ভাঙলে আমরা আমরণ অনশনে যাবো। বারবার এই বাজারকে আমরা সিন্ডিকেটের কবলে পড়তে দেবো না। আমরা সবার জন্য ব্যবসা চাচ্ছি। নির্দিষ্ট ১০০ জন কেন ব্যবসা করবে? এই সিন্ডিকেট ২৪ হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে।