নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও কারচুপির অভিযোগে ১১ দলের বিক্ষোভ

Printed Edition
first-3
সারা দেশে হত্যা ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর পল্টন এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে কারচুপি, ‘ম্যানেজ ভোট’ ও নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় জোট। সমাবেশে জোটের শীর্ষ নেতারা নির্বাচনকে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যানুপুলেশন’-এর নির্বাচন আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানান।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, জুলাই বিপ্লবের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে মানুষ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু নির্বাচনের নামে সাজানো প্রহসনের মাধ্যমে টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের জাতীয় সংসদে যাওয়ার পথ রুদ্ধ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সঠিকভাবে ব্যালটের অধিকার ফিরিয়ে না দিলে জনগণ তা আদায় করবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নারী নির্যাতন ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে, যা নতুন করে ফ্যাসিবাদের উত্থানের ইঙ্গিত বহন করে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের ফল প্রস্তুত ও ঘোষণার ক্ষেত্রে নজিরবিহীন অনিয়ম হয়েছে। ফলাফল স্থগিত ও ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে ১১ দলীয় জোটের বিজয় ঠেকানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার রহস্য জাতির সামনে উন্মোচনের দাবি জানিয়ে তিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, নির্বাচন ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েছে। বড় জয় পেলেও বড় মনের পরিচয় দেয়া হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু অভিযোগ করেন, নির্বাচনের বিভিন্ন স্তরে কারসাজি হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনা ও ফলাফল পরিবর্তনের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আহত নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র রক্ষায় প্রয়োজন হলে আবার রাজপথে নামবেন তারা।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুল জলিল বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করা হলেও তা পূরণ হয়নি। নির্বাচনের পর সহিংস আচরণ উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রফেসর ওমর ফারুক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখা তাদের ভুল ছিল। প্রশাসনে অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়ে গেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। টাকার বিনিময়ে গুম ও হত্যায় জড়িতরা এখনো প্রশাসনে বহাল তবিয়তে আছে বলেও উল্লেখ করেন ওমর ফারুক। সমাবেশ থেকে ১১ দলীয় জোট নির্বাচনী অনিয়ম ও সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানায়।া