শেষ বিদায়ে জনতার ঢল
দড়ি ধরে মসজিদে যেতেন ১২০ বছরের অন্ধ মুয়াজ্জিন
Printed Edition
বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা
বড়াইগ্রাম উপজেলার সবচেয়ে প্রবীণ মানুষ হিসেবে পরিচিত ১২০ বছর বয়সী অন্ধ মুয়াজ্জিন আবদুর রহমান মোল্লা আর নেই। গত রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন আবদুর রহমান। তিনি দুই স্ত্রী, ১০ ছেলে, ৯ মেয়ে এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় বড়দেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নামাজে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় মুসল্লিদের পাশাপাশি বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলা থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২২ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় আবদুর রহমান মোল্লা দৃষ্টিশক্তি হারান। অন্ধত্বের ছয় বছর পর বড় ছেলেকে সাথে নিয়ে তিনি মক্কায় পবিত্র হজ পালন করেন। দেশে ফিরে নিজ গ্রামে ৫ শতাংশ জমির ওপর একটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করেন এবং জমিটি মসজিদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। পরে নিজেই ওই মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
চোখে দেখতে না পারায় মসজিদে যাতায়াতে সমস্যা দেখা দিলে তিনি নিজেই সমাধানের পথ বের করে নেন। পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার পথে দড়ি ও বাঁশ টাঙিয়ে দেন। একটি লাঠির সহায়তায় সেই দড়ি ও বাঁশ ধরে তিনি প্রতিদিন নিয়মিত মসজিদে যেতেন। প্রথম দিকে ছেলে ও নাতিরা তাকে পথচলায় সহায়তা করলেও পরে তিনি একাই দড়ি বেয়ে মসজিদের যাওয়ার অভ্যাস রপ্ত করে নেন।
আবদুর রহমান মোল্লার ছেলে স্কুলশিক্ষক মো: শফিকুল ইসলাম সাইফুল বলেন, হজ থেকে ফেরার পর তার বাবা মসজিদ প্রতিষ্ঠা করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও শেষ বয়স পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেছেন।
নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল আজিজ বলেন, আবদুর রহমান মোল্লা বড়াইগ্রামের সবচেয়ে প্রবীণ মানুষ ছিলেন। দৃষ্টিশক্তিহীন হয়েও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষকে ধর্মের পথে আহ্বান জানাতে তিনি যে নিষ্ঠা দেখিয়েছেন তা বিরল। আমরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন এবং তার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি।