ভারতীয় কম্বলে জৈন্তাপুরে ছড়িয়ে পড়ছে অস্ত্র
Printed Edition
জৈন্তাপুর (সিলেট) সংবাদদাতা
ভারতীয় অবৈধ চোরাই কম্বল ও চাদরে সয়লাভ সিলেটের সীমান্তবর্তী জাফলং জিরো পয়েন্ট ও জৈন্তাপুর এলাকা। গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ ও বিজিবির নীরব ভূমিকার সুযোগে এখানে গড়ে উঠেছে জমজমাট অবৈধ বাজার। শীতের সম্বল হিসেবে কম্বল ও চাদর কিনতে বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা ভিড় জমালেও অভিযোগ রয়েছে, এসব কম্বলের আড়ালেই শহরে ছড়িয়ে পড়ছে ইয়াবা মাদক ও ভারতীয় আগ্নেয়াস্ত্র।
সরেজমিনে দেখা যায়, জাফলং ও জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকায় দোকানের ভেতর-বাইরে সারিবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে ভারতীয় কম্বল, চাদর ও বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী। পাঁচ কেজি ওজনের প্রতিটি কম্বল বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৮০০ থেকে তিন হাজার টাকায়। আট কেজি ওজনের কম্বলের দাম চার হাজার থেকে চার হাজার ২০০ টাকা। গায়ে জড়ানো ভারতীয় চাদর বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায়।
গাইবান্ধা থেকে আসা ক্রেতা লুৎফর রহমান বলেন, বেড়াতে এসে দেখি প্রকাশ্যে ভারতীয় চোরাই কম্বল, কসমেটিক্স এমনকি মাদকও বিক্রি হচ্ছে। সীমান্তের ওপার থেকে এসব অবৈধ পণ্য জনসম্মুখে দেশে ঢুকছে। বিজিবি ও পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কম্বল ব্যবসায়ী জানান, এখানে যারা কম্বল ও কসমেটিক্স বিক্রি করেন, তারা সবাই প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা দেন। এই টাকা বিভিন্ন দফতরে ভাগ করে দেয়া হয়। এ জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বাধা আসে না, নির্বিঘেœ ব্যবসা চালানো যায় বলে দাবি করেন তিনি।
এ দিকে সীমান্ত দিয়ে আসা এসব চোরাই কম্বল আটকাতে গিয়ে মহাসড়কে যানবাহন তল্লাশিতে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গতকাল সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুর মডেল থানার সামনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালায় পুলিশ।