হরমুজ প্রণালীর ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে অনুমতির প্রতীক্ষায় ‘বাংলার জয়যাত্রা’
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা, চট্টগ্রাম
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন বাংলাদেশী পতাকাবাহী জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা এখনো পারস্য উপসাগরে আটকে আছে। হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজটি হরমুজ প্রণালীর ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকারে (ওপিএল) নোঙর করে আছে। ৩১ নাবিক ক্রুসহ জাহাজটি এখন ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অনুমতি এবং বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলার জয়যাত্রার চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা হরমুজ প্রণালীর ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে পারস্য উপসাগরের মিনা সাকরে অবস্থান করছি। স্টিমিং করলে হরমুজ প্রণালীতে যেতে সেখান থেকে ৪ ঘণ্টা লাগবে বলে তিনি জানান। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত আমরা কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি। যদি আমরা রিটেন কোনো কিয়ারেন্স পাই আইআরজিসি এবং বাংলাদেশের ফরেন মিনিস্ট্রি থেকে তখন আমরা নোঙর তুলব।
সেখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে এই জাহাজী কর্মকর্তা জানান, কার্যত আমরা যুদ্ধ জোনে নেই, আবার যুদ্ধ জোনেও বলা যায়। এখানকার পরিবেশ প্রতি সেকেন্ডেই অনিরাপদ, যেকোনো মুহূর্তেই ক্যাজুয়ালটি ঘটে যেতে পারে। গতকাল শুক্রবারও দু’টি জাহাজ ব্যালাস্টিক মিসাইল আক্রমণের শিকার হয়েছে। তিনি সবার কাছে নাবিক ক্রুদের জন্য দোয়া চান।
বিএসসি সূত্র জানিয়েছে, গত বুধবার ভোরে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পর জাহাজটি সম্ভাব্য তিনটি গন্তব্য সামনে রেখে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার জন্য অগ্রসর হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে হরমুজ থেকে ৬০ নটিক্যাল মাইল দূরত্বে থাকাবস্থায় বেতারবার্তায় ইরানের বাহিনীর কাছে অনুমতি চাওয়া হয়। তারা নট এপ্রুভড বলেছে। গতকাল পর্যন্ত অনুমতি মেলেনি।
সূত্র জানায়, সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে সার বোঝাই করার পর জাহাজটি পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে অপেক্ষমাণ ছিল দাম্মাম বন্দরে। সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন এমওপি সার বোঝাই করা হয়েছে। হরমুজ অতিক্রম করে জাহাজটির পরবর্তী গন্তব্য সাউথ আফ্রিকা।
প্রসঙ্গত, কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় বাংলার জয়যাত্রা। এর পরদিনই ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এর পর থেকেই বাংলার জয়যাত্রা আটকা পড়ে।