ইসলামী শাসন ও লোকশাসন

Printed Edition
islami logo
ইসলামী শাসন ও লোকশাসন

মুহাম্মদ সালমানুল হক আনাস

আধুনিক বিশ্বে গণতন্ত্র শব্দটি গুরুত্বের সাথে উচ্চারিত হয়। বহু দেশ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। ১৯তম শতকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করেন : অর্থাৎ- জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা পরিচালিত এবং জনগণের কল্যাণের জন্য। এই সংজ্ঞায় জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে সর্বশক্তিমান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো কর্তৃত্বের অধিকারী নেই। এখানেই ইসলামী গণতন্ত্র ও পাশ্চাত্য গণতন্ত্রের মৌলিক পার্থক্য। ইসলামে সার্বভৌমত্ব কেবল আল্লাহর। আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘ফয়সালার অধিকার একমাত্র আল্লাহরই।’ (সূরা ইউসুফ-৪০) আবার বলেন- ‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে, তাদের শাসনক্ষমতা দান করার প্রতিশ্রুতি আল্লাহ দিয়েছেন... তবে তারা যেন আমার বিধানের বিরোধিতা না করে।’ (সূরা নূর-৫৫) অতএব, ইসলামী শাসনব্যবস্থায় জনগণ শাসনের অংশীদার হলেও তারা শরিয়াহর বাইরে কোনো আইন প্রণয়ন করতে পারে না। আবার জনগণের মতের মূল্য আছে, তবে শর্তসাপেক্ষ ইসলামে পরামর্শভিত্তিক শাসনব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা:-এর নির্দেশ, ‘তুমি তাদের সাথে পরামর্শ করো। খোলাফায়ে রাশেদার যুগেও দেখা যায়, খলিফা নির্বাচনে জনগণের মত নেয়া হয়েছে। তবে নির্বাচন কখনোই জনপ্রিয়তা-নির্ভর নয়; বরং তাকওয়া, আমানতদারি ও যোগ্যতা এ ক্ষেত্রে মুখ্য বিষয়। আইন প্রণয়নের উৎস হলো আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহ। আধুনিক গণতন্ত্রে জনগণ চাইলে কোনো আইন পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারে। কিন্তু ইসলামে তা সম্ভব নয়। রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘আমি তোমাদের মধ্যে এমন দু’টি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না; তা হলো আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ।’ (মুয়াত্তা মালিক) শরিয়াহর ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা কেবল ইবাদত নয়; বরং তা ঈমানের দাবিও।

ধর্মনিরপেক্ষতা নয়, ধর্মই রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড : আধুনিক গণতন্ত্র মূলত ধর্মনিরপেক্ষ। এখানে ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু ইসলাম ধর্মকে জীবনের সব অঙ্গনে পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ করে। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন- ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করেছি এবং আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করে দিয়েছি।’ (সূরা মায়িদা-৩) গণতন্ত্র মানুষের ইতিহাসে একটি অগ্রসরধর্মী ব্যবস্থা, কিন্তু তা তখনই কল্যাণকর, যখন তা আল্লাহর সার্বভৌমত্বের অধীনে পরিচালিত হয়। ইসলামী গণতন্ত্র মূলত জনগণের অংশগ্রহণে এবং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে পরিচালিত ন্যায়ভিত্তিক একটি শাসনব্যবস্থা। এখানে নেতৃত্ব মানে খিদমত, আর আইন মানে আল্লাহর নির্দেশনা। তাই মুসলমানদের জন্য আদর্শ গণতন্ত্র একটিই আল্লাহর সার্বভৌমত্বের অধীনে জনগণের শাসন।

লেখক : শিক্ষার্থী, বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদরাসা, চট্টগ্রাম