নেইমার ফিরেছে তাই বাড়তি আনন্দ

Printed Edition
Font Page-3
৯১৮ দিন পর ১৪ মিনিটের জন্য মাঠে নামলেন নেইমার। তারপরও নিস্তার পেলেন না ফাউল থেকে : ইন্টারনেট

রফিকুল হায়দার ফরহাদ নিউ ইয়র্ক থেকে

পুরোপুরি সুস্থ নন। এর পরও স্কোয়াডে রাখা হয়েছে। প্রথম দুই ম্যাচে খেলা হয়নি। তবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তাকে খেলানো হতে পারে, এই তথ্য আগেই গিয়েছিল সমথর্কদের কাছে। কিন্তু খেলার শুরুতে প্রথম একাদশে কোচ কার্লো অ্যানচেলোত্তি রাখলেন না নেইমার জুনিয়রকে। যে কারণে ব্রাজিল সমর্থকদের অপেক্ষা আর শেষ হচ্ছিল না। কখন নামবেন এই রাজপুত্র। শেষ পর্যন্ত ৭৬ মিনিটে মাঠে নামেন নেইমার। এর আগেই যখন তিনি মাঠে নামার জন্য ওয়ার্মআপ করতে যাচ্ছিলেন তখন থেকেই দর্শকদের উচ্ছ্বাস বাড়তে থাকে। এরপর যখন ইনজুরি থেকে ফেরা এই ফরোয়ার্ড মাঠে নামলেন, তখনই নেইমার-নেইমার বলে দর্শকদের গগণবিদারী সেøাগান। এর মাধ্যমে সব শঙ্কা দূর করে মাঠে আসেন নেইমার। তার এই ফেরার ম্যাচে ব্রাজিল ৩-০ গোলে হারিয়েছে স্কটল্যান্ডকে। এতে ‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ালিফাই করেছে সেরা ৩২ বা নকআউট পর্বে।

মাঠে নামার পর কোনো গোল করতে পারেননি নেইমার। কোনো গোলের অ্যাসিস্টও নেই। এর পরও যতক্ষণ মাঠে ছিলেন স্পট লাইটটা কেড়ে নিয়েছেন নেইমার। তিনবার কর্নার কিক নিয়েছেন। তিনটি কর্নার কিকই ছিল বিপজ্জনক। এরপর নিজেই গোলে শট নেন সরাসরি। সে শটটি গোলরক্ষক বরাবর যাওয়ায় গোল আর পেলেন না তিনি। একবার ফাউলের শিকার হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের জয়। মোট কথা ১৪ মিনিট মাঠে থেকে ২৪ বার বলে টাচ করেছেন।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের এই ম্যাচ ছিল মিয়ামিতে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিভিন্ন স্থানে যে বিশাল স্ক্রিনে খেলা দেখার আয়োজন, সবখানেই ছিল ব্রাজিলের সমর্থকদের ভিড়। এই সমর্থকদের বড় একটি অংশ ব্রাজিলের নাগরিক। অন্যরা ব্রাজিলের ভিন দেশী ফুটবলপ্রেমী। সর্বত্রই ছিল এক চিত্র, নেইমার বল পেয়েছেন আর সাথে সাথেই ব্রাজিলের সমর্থকদের উল্লাসে মেতে ওঠা।

নেইমারের এই ফিরে আসাটা যেন এবারের বিশ্বকাপকে পূর্ণতা দিয়েছে। আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি হ্যাটট্রিক করেছেন, দুই ম্যাচে দিয়েছেন ৫ গোল। গোল করেছেন পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। গোলের মধ্যে আছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও নরওয়ের আর্লিং হলান্ড। গোলের দেখা পেয়েছেন মিসরের মোহাম্মদ সালাহও। মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মাঠগুলোতে তার সাবেক সতীর্থরা গোল করছেন, মাঠ মাতিয়ে বেড়াচ্ছেন আর সেখানে নেইমার থাকবেন মাঠের বাইরে, তা কি মেনে নেয়া যায়। শেষ পর্যন্ত সাবেক বার্সেলোনা এবং প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের এই তারকা মাঠে ফেরায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আক্রমণভাগ আরো শক্তিশালী হলো। এখন বাকি আছে তার গোল পাওয়াটা। নকআউটে উঠেছে ব্রাজিল। সেখানে কোচ অ্যানচেলোত্তি যদি তাকে পরের ম্যাচে বেশি গেম টাইম দেন, তাহলে গোল করার সুযোগ বেশি পাবেন নেইমার। তখন হয়তো গোলেরও দেখা পাবেন।

২০১৪ বিশ্বকাপে নিজ দেশের মাঠে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অভিষেক তার। সেই ম্যাচে করেছিলেন জোড়া গোল। সেই আসরেই কলম্বিয়ার সাথে ম্যাচে কোমরে মারাত্মক চোট নিয়ে দল থেকে ছিটকে পড়তে হয় তাকে। এরপর রাশিয়া বিশ্বকাপ, কাতার বিশ্বকাপে খেলে এবার যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কানাডাতেও নিজের উপস্থিতির জানান দিলেন।

তিন বছর পর ব্রাজিলের জার্সি গায়ে মাঠে নামলেন নেইমার। তার এই ফেরা ল্যাটিন আমেরিকান সর্ববৃহৎ দেশটির বিশ্বকাপ শিরোপা পুনরুদ্ধার মিশনে বড় প্রেরণা। ২০১৯ সাল থেকে আর কোনো টুনামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি সেলেকাওরা। সেবারই সর্বশেষ কোপা আমেরিকায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। আর পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ীদের শেষবারের মতো বিশ্বকাপ হাতে নেয়া ২০০২ সালে।

সময়টা ভালো যাচ্ছিল না ব্রাজিল ফুটবল দলের। ট্রফি-খরার সাথে বেশ কয়েকটি ম্যাচে তারা হতাশাজনকভাবে জিততেও পারেনি। সাম্প্রতিক সময়ে আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, জাপান, তিউনিসিয়া, ফ্রান্স, জাপান এবং এবারের বিশ্বকাপেই মরক্কোর বিপক্ষে জিততে ব্যর্থ হওয়া। নেইমারের আগমন কি দলকে পুরনো শক্তিতে ফিরিয়ে নিতে পারবে।

এক সময় পেলের সাথে তুলনা করা হতো নেইমারকে। সেই পেলে তিনবার বিশ্বকাপ জিতেছেন। অথচ নেইমারের ভাণ্ডারে কোনো বিশ্বকাপ নেই। এবার কি বিশ্বকাপ জিতে রোনালদো, রোমারিও, রিভালদো, রোনালদিনহোদের পাশে আসতে পারবেন। উল্লেখ্য, ৩৪ বছর বয়স্ক নেইমারের পরের বিশ্বকাপ খেলার সম্ভবনা কমই।

২০১৬ সালের রিও অলিম্পিক গেমসে ব্রাজিল ফুটবলে স্বর্ণ জিতেছিল। সেই স্বর্ণ জয়ে নেইমার বড় ভূমিকা রাখেন গোল করে। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জেতার জন্য এখন নেইমারকে জ্বলে উঠতেই হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস ওপেনের ভেনু ফাশিং মিডোতে ফ্যান জোনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে বিশাল স্ক্রিনে খেলা দেখেন টিকিট কিনে বিশ্বকাপ দেখতে না পারা দর্শকরা। নানান দেশের দর্শকদের মিলন মেলা। সেখানে উপস্থিত ব্রাজিলের সমর্থক ক্যালোরিনা জানান, নেইমার ফিরেছে। দলও টানা দুই ম্যাচে তিন গোল দিয়েছেÑ এবার আমরা ষষ্ঠ বিশ্বকাপও জিতব।