টানা তৃতীয় দিনের মতো আদালত বর্জন
সভাপতি গ্রেফতার ইস্যুতে উত্তাল বরিশাল বার
Printed Edition
বরিশাল ব্যুরো
টানা তৃতীয় দিনের মতো আদালত বর্জন করে বিােভ কর্মসূচি পালন করেছেন বরিশালের আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আদালতের সব ধরনের বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে তারা আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন। এদিন বার লাইব্রেরির সব দরজা বন্ধ রেখে কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। ফলে আদালতে আসা বিচারপ্রার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। নির্ধারিত তারিখে হাজিরা ও অন্যান্য মামলার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যান।
গত ২৪ ফেব্র“য়ারি বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে সাবেক এমপি ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস জামিন পান। এর আগে একই আদালত থেকে জামিন পান সাবেক এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ, বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসীমউদ্দীন, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন এবং বরিশাল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম ছবি।
তাদের জামিন শুনানিতে বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীদের আদালতে প্রবেশ করতে না দেয়ার অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগের প্রতিবাদে আইনজীবীরা আদালত বর্জন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
আদালত বর্জন কর্মসূচির মধ্যেই অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বিচারিক কার্যক্রম শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ সময় বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকন আদালতের কার্যক্রম বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান। একপর্যায়ে উত্তেজনার মধ্যে বেঞ্চ টেবিল এলোমেলো করার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ২৫ ফেব্র“য়ারি অতিরিক্ত চিফ মেট্রো ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার বাদি হয়ে ১২ জন আইনজীবীর নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাত ২০ আইনজীবীর বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন।
মামলার পরপরই অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তার গ্রেফতারের পরপরই সাধারণ আইনজীবীরা আরো সোচ্চার হয়ে ওঠেন এবং টানা কর্মসূচি পালন করছেন।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন চাকলাদার বলেন, জামিন শুনানির সময় আমাদের আইনজীবীদের আদালতে ঢুকতে দেয়া হয়নি। এটি ন্যায়বিচার ও আইন পেশার স্বাধীনতার পরিপন্থী। সভাপতিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোয় আমরা ুব্ধ। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।
তবে এ বিষয়ে আদালত ও প্রশাসনের প থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।