বায়োগ্যাসে বদলাচ্ছে গ্রামীণ জীবন খামারিদের আগ্রহ বাড়ছে
Printed Edition
কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা
গ্রামীণ জনপদের প্রচলিত জ্বালানি ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে কাঁঠালিয়ায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বায়োগ্যাস প্রযুক্তি। পরিবেশবান্ধব এই জ্বালানি ব্যবস্থার সুফল দেখে ঝুঁকছেন খামার মালিকরা, বদলাচ্ছে তাদের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক চিত্র।
দেশের গ্রামাঞ্চলে এখনো রান্নার প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয় খড়-কুটা, নাড়া ও শুকনা গোবর। এতে এক দিকে যেমন বনজ সম্পদের ওপর চাপ বাড়ছে, অন্য দিকে পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান হতে পারে বায়োগ্যাস, যা একই সাথে জ্বালানি ও জৈব সারের উৎস।
কাঁঠালিয়া উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামেই বায়োগ্যাসের প্রধান উপাদান গোবর ও কচুরিপানা সহজলভ্য। ফলে এখানকার গ্রামীণ অর্থনীতিতে এটি একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প জ্বালানি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উত্তর আউরা গ্রামের মেসার্স মাইনুল ডেইরি খামারের মালিক মো: মাইনুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, ‘খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করি। এখন সেই বর্জ্যই আমাদের সম্পদে পরিণত হয়েছে। রান্নার সব কাজ বায়োগ্যাসেই হচ্ছে, আর অবশিষ্ট সøারি জমিতে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করছি।’ তিনি জানান, এতে খামার এলাকায় দুর্গন্ধও নেই।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান কচুয়া গ্রামের খামারি মো: হানিফ খান। তিনি বলেন, ‘আগে খামারের বর্জ্য ফেলে রাখলে পরিবেশ নোংরা হতো, মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ত। এখন বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের মাধ্যমে তা সম্পদে রূপান্তর হচ্ছে এবং দূষণ কমছে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অল্প পরিমাণ গোবর থেকেই একটি পরিবারের দৈনন্দিন রান্নার জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব। পাশাপাশি উৎপাদিত সøারি জমির উর্বরতা বাড়িয়ে ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
কৃষি কর্মকর্তা ফাতেমা ইসলাম বলেন, বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের সøারি ব্যবহারে রাসায়নিক সারের নির্ভরতা কমছে এবং জমির উৎপাদনশীলতা বাড়ছে।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: এইচ এম জামশেদ আজাদ জানান, খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বায়োগ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এতে পরিবেশ দূষণ কমছে এবং খামার ব্যবস্থাপনা সহজ হচ্ছে।
এদিকে যুব উন্নয়ন অধিদফতরের মাধ্যমে ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনে কারিগরি সহায়তা ও স্বল্পসুদে ঋণ দেয়া হচ্ছে। উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: কামরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, খামারিদের উৎসাহিত করতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বায়োগ্যাসে রান্নার ফলে ধোঁয়াজনিত রোগ কমছে, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা উপকৃত হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মকবুল হোসেন বলেন, বায়োগ্যাস ব্যবহারে জ্বালানির জন্য কাঠ পোড়ানোর প্রয়োজন কমে যাচ্ছে। এতে পরিবেশ রক্ষা হচ্ছে এবং খামারিরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে বায়োগ্যাস প্রযুক্তি গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।