ফিলিং স্টেশনের টাকা ডাকাতি চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
গত ৯ আগস্ট সকালে উত্তরা পূর্ব থানাধীন ডিএল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুল করিমসহ চারজন এক কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে ব্যাংকে যাচ্ছিলেন। তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের ক্রাউন প্লাজার নিকট বিআরটি লেনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা ডাকাত দল তাদের গতিরোধ করে। আগ্নেয়াস্ত্র ও চাপাতি দিয়ে ভয় দেখিয়ে ও আঘাত করে সব টাকা লুট করে পালিয়ে যায়। গতকাল ডিএমপির এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
এ ঘটনায় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও উত্তরা ক্রাইম বিভাগের এক যৌথ অভিযানে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ইলিয়াস ও জাফরকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যে মাতুয়াইল, যাত্রাবাড়ী ও পোস্তগোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাকি তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। ডাকাতদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত টাকার মধ্যে রবিউলের বাসা থেকে তিন লাখ এবং সাগরের বাসা থেকে ৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তাদের হেফাজত থেকে চারটি সাত দশমকি ৬৫ মি.মি. পিস্তল, ছয়টি ম্যাগাজিন, ২১ রাউন্ড গুলি, র্যাবের আটটি ভুয়া ভেস্ট, ছয়টি ক্যাপ, আটটি ভুয়া পরিচয়পত্র, চারটি ওয়াকিটকি, সাত জোড়া হাতকড়া এবং ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে সরকারি উপসচিবের সীল-স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া চক্রের মূল হোতা মো: বাবলু কাজীকে (৬০) গ্রেফতার করেছে ডিবি ওয়ারী বিভাগ। পল্লবী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতারের সময় জাল নিয়োগ আদেশ ও প্রজ্ঞাপন জব্দ করা হয়। এই চক্রটি চাকরির আশ্বাস দিয়ে ফরিদপুরের এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকেই ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল।
অন্য দিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মোট ৫৫৯ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপি। এ সময় ৪৪টি মামলা করা হয়েছে। অভিযানে তিনটি বিদেশী পিস্তল, বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য (গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইন, মদ) ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। সবচেয়ে বেশি ১১৮ জন গ্রেফতার হয়েছে মিরপুর বিভাগ থেকে। এছাড়াও মতিঝিল বিভাগ থেকে ৫৮ জন এবং তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৭৯ জনকে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া যাত্রাবাড়ী ও তুরাগ এলাকায় বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে আরো ৪২ জনকে।