পশ্চিমের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন ট্রাম্প : হিলারি

Printed Edition
onno-2
পশ্চিমের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন ট্রাম্প : হিলারি

হাফিংটন পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, ট্রাম্প পশ্চিমের ‘মানবিক মূল্যবোধের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প ন্যাটো জোট এবং পুরো পশ্চিমা বিশ্বকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। হিলারির ভাষায়, ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের মতো ‘জবাবদিহিহীন ক্ষমতা’র মডেল অনুসরণ করতে চান।

জার্মানির মিউনিখ শহরে গত শনিবার শুরু হওয়া মিউনিখ সিকিউরিটি সিকিউরিটি কনফারেন্সে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এক প্যানেল আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনার সময় চেক রাজনীতিক পিতর ম্যাসিনকা তাকে ব্যঙ্গ করেন।

চেক প্রজাতন্ত্রের উপপ্রধানমন্ত্রী ম্যাসিনকা তখন রসিকতা করে বলেন, ‘আমার মনে হয়, আপনি তাকে সত্যিই পছন্দ করেন না।’ এই মন্তব্যে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে। কিন্তু হিলারি ক্লিনটনের মুখে বিরক্তির হাসি দেখা যায়। তিনি মোটেও আনন্দিত ছিলেন না সে সময়। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ম্যাসিনকার মন্তব্যে অনেকেই হাসলেও সাবেক ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সেটিকে মজার কিছু মনে করেননি। তিনি সাথে সাথে জবাব দেন, ‘এটা একদমই সত্য। আমি শুধু তাকে পছন্দ করি না, তা নয়। আমি তাকে পছন্দ করি না, কারণ তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন তার কারণে। আপনি যদি মনে করেন, এতে ভালো কিছু আসবে, তাহলে বিষয়টি ভালোভাবে ভেবে দেখুন।’

ট্রাম্পের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে ম্যাসিনকা বলেন, বর্তমানে দুই দফা প্রেসিডেন্ট হওয়া ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়াশীল কৌশল আসলে আমেরিকার এমন নীতির প্রতিক্রিয়া, যা ‘সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অনেক দূরে চলে গেছে’ এবং ‘বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।’ তিনি বলেন, তথাকথিত ‘ক্যানসেল কালচার’, ‘জলবায়ু আতঙ্কবাদ’ এবং ‘ওয়োক’ মতাদর্শ এসব নীতির অংশ।

ম্যাসিনকা ডানপন্থীদের প্রচলিত অভিযোগগুলো একের পর এক তুলতে থাকলে ক্লিনটন মাথা নেড়ে ও হালকা হেসে প্রতিক্রিয়া জানান। কিন্তু যখন ম্যাসিনকা তথাকথিত ‘জেন্ডার বিপ্লব’ নিয়ে মন্তব্য করেন, তখন তিনি তাকে থামিয়ে দেন। ক্লিনটন কটাক্ষ করে বলেন, ‘কোন জেন্ডার? নারীরা তাদের অধিকার পাবে- এটাই কি সমস্যা?’ জবাবে ম্যাসিনকা বলেন, এমন কিছু মানুষ আছেন যারা বিশ্বাস করেন ‘দুইয়ের বেশি জেন্ডার রয়েছে।’

ম্যাসিনকা দাবি করেন, তিনি যা যা বলেছেন, সেগুলো প্রমাণ করে বামপন্থীরা ‘অতিরিক্ত দূরে চলে গেছে।’ তখন ক্লিনটন প্রশ্ন তোলেন, ‘এতে কি ইউক্রেনের মানুষদের বিক্রি করে দেয়া ন্যায্য হয়? যারা সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রাণ দিচ্ছে?’ জবাবে ম্যাসিনকা কটাক্ষ করে বলেন, ‘আমি কি আমার বক্তব্য শেষ করতে পারি? দুঃখিত, এটা আপনাকে অস্বস্তিতে ফেলছে।’