ঈদযাত্রায় সড়কে প্রতিদিন গড়ে ২০ জন নিহত : রোড সেফটি ফাউন্ডেশন
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
এবারের ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ২০ জন নিহত হয়েছেন। এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে ১৫ দিনে দেশে ৩৭৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯৮ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে নারী ৪৬ জন ও শিশু ৬৭ জন। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের ‘ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে’ এই চিত্র উঠে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৪ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।
তাদের হিসাবে, গত বছরের ঈদুল ফিতরের যাত্রায় প্রতিদিন গড়ে ২২ জন নিহত হয়েছিলেন। ওই বছর ১১ দিনের ঈদযাত্রায় ২৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪৯ জন নিহত হন।
সংগঠনটি বলছে, এবারের ঈদযাত্রায় মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১১৬ জন, বাসযাত্রী ৪১ জন, ট্রাক-পিকআপ আরোহী ১৩ জন, প্রাইভেট কার-মাইক্রোবাস আরোহী ২০ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান) ৫০ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নছিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-টমটম) ৯ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী দুইজন নিহত হয়েছেন। আর মোট আহত হয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেণ ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১১৫টি (৩০.৮৩%) জাতীয় মহাসড়কে, ১৬১টি (৪৩.১৬%) আঞ্চলিক সড়কে, ৪৮টি (১২.৮৬%) গ্রামীণ সড়কে, ৪২টি (১১.২৬%) শহরের সড়কে এবং ৭টি (১.৮৭%) ফেরিঘাটসহ অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে। দুর্ঘটনার ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ ভোর বেলা, ২৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ সকালে, ২৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ দুপুরে, ১৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ বিকেলে, ৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ সন্ধ্যায় এবং ২০ দশমিক ৩৭ শতাংশ ঘটেছে রাতে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। ২৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ২৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ প্রাণহানি ঘটেছে এই বিভাগে। এরপরই আছে ঢাকা বিভাগ। ১৭ দশমিক ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ২৪ দশমিক ১৬ শতাংশ প্রাণহানি ঘটেছে এই বিভাগে।
এর আগে গত ৩০ মার্চ বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, এবারের ঈদুল ফিতরে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে ৩৭৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ৩৯৪ জন। আর আহত হয়েছেন এক হাজার ২৮৮ জন। এর মধ্যে শুধু সড়কেই ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় ৩৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে ১০টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এগুলো হলো ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ-যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপরে (বিআরটিএ) সমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, একটি সুস্থ-স্বাভাবিক ও নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে হলে কমপে তিন বছর মেয়াদি একটি টেকসই ও সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা নেয়া প্রয়োজন। এই পরিকল্পনার অধীনে রেলপথ সংস্কার এবং সম্প্রসারণ করে ট্রেনের সংখ্যা বাড়িয়ে সড়কপথের যাত্রীদের মানুষকে ট্রেনমুখী করতে হবে। নৌপরিবহন উন্নত ও জনবান্ধব করতে হবে। বিআরটিসির রুট বিস্তৃত করে বাসের সংখ্যা বাড়াতে হবে। ঈদযাত্রায় পোশাকশ্রমিকরা যাতে পর্যায়ক্রমে ছুটি উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য পরিকল্পনা সাজাতে হবে। তাদের জন্য অঞ্চলভিত্তিক যানবাহনের ব্যবস্থা করতে হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করলে পরবর্তী সব ঈদযাত্রা নির্বিঘœ ও নিরাপদ হবে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য শিা-সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরাপদ সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এ েেত্র সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা অতীব জরুরি।