খেলতে না পারার কষ্টও আছে : বুলবুল
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
টি-২০ বিশ্বকাপে এবারের আসরে নেই বাংলাদেশ। নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে খেলতে না চাইলে টাইগারদের বাদ দিয়েই বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় আইসিসি। তবে বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল শেষ পর্যন্ত আশা ও বিশ্বাস ছিল বিশ্বকাপে খেলবে বাংলাদেশ।
আশায় ছিলেন বোর্ড সভাপতি, ‘প্রথমত আমরা একবারো বলিনি বিশ্বকাপ খেলব না। ইনফ্যাক্ট যখন টস করতে নামল ওয়েস্ট ইন্ডিজ-স্কটল্যান্ড তখনো বিশ্বাস করতে পারিনি যে, আমরা খেলছি না। খেলা হয়নি সেটি ক্রিকেট বোর্ডের কোনো ব্যর্থতা ছিল না। বিকজ উই হ্যাড টু লিসেন টু আওয়ার গভর্নমেন্ট।’
সরকারি সিদ্ধান্তে বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি জানিয়ে বুলবুল জানান, সরকার অনুমতি না দিলে খেলা সম্ভব নয়। ‘গভর্নমেন্ট যদি আমাদেরকে পারমিশন না দেয় আমরা তো খেলতে পারি না। তবে এটাও ঠিক গভর্নমেন্ট ভালো-মন্দের বিষয়টা আমাদের থেকে ভালো বোঝে। এই যে স্টেডিয়ামগুলোর মালিক কিন্তু জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। প্রায় ফ্রি ব্যবহার করতে দেয়, সারা পৃথিবী কোথাও দেয় না।’
বোর্ড সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে যেভাবে সহায়তা করে গভর্নমেন্টের প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয় যখন যে সাহায্য লাগে আমাদেরকে সবসময় করে। আমাদের ভালোর জন্যই গভর্নমেন্ট মনে করেছে যাওয়া উচিত নয়। নিশ্চয়ই তাদের কাছে অ্যাডভান্স কোনো ইনফরমেশন ছিল। বাট তারা কিন্তু কখনো বলেনি তোমরা বিশ্বকাপ খেলো না। আমার খুবই খারাপ লাগছে যে আমরা বিশ্বকাপ খেলতে পারছি না এবং এই কষ্টটা ভুলতে পারব না। তবে দেশের স্বার্থ সব থেকে আগে। ক্রিকেট খেলা থেকে দেশ অনেক বড়।’
এশিয়া ও বিশ্ব ক্রিকেটে বড় অবদান রেখেছে বাংলাদেশ
টি-২০ বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে কেটেছে অনিশ্চয়তা। দীর্ঘ আলোচনার পর এসেছে সমাধান। গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বড় অবদান রেখেছে বাংলাদেশও। টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে বাদ দেয়ার প্রতিবাদে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয় পাকিস্তান। বাংলাদেশকে সাথে নিয়ে হয়েছে সমস্যার সমাধান। আইসিসি-পিসিবি-বিসিবির মিটিংয়ে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
বিসিবি প্রেসিডেন্ট বুলবুল বলেন, ‘একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল বাংলাদেশ। আমাকে ও আইসিসির ভাইস চেয়ারম্যানকে স্টেট গেস্ট দেয়া হয়, সেই লেভেলের প্রোটোকল দেয়া হয়েছিল এবং আমি গর্বিত অনুভব করছিলাম যে বাংলাদেশকে তারা এত সম্মান করছে। একপর্যায়ে মনে হয়েছে ইয়েস উই ডিজার্ভ দিস এবং পাঁচ ঘণ্টার মিটিংয়ের একপর্যায়ে মনে হয়েছে, উই হ্যাড টু রিজলভ ইট। বলতে পারি এশিয়া ও বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য বড় অবদান রেখেছে বাংলাদেশ।’
বুলবুল আরো বলেন, ‘আইসিসি এমন একটা প্রতিষ্ঠান তারা কালকে কী ঘটছে সেটি নিয়ে চিন্তা করে না। যে ছেলেটা বা যে মেয়েটা এখনো পৃথিবীতে আসেনি তারা সেটি নিয়েও চিন্তা করে। তাদের কাছে মনে হয়েছে বাংলাদেশ একটা ক্রিকেট পাওয়ার হাউজ হতে পারে। হয়তো আমরা এখনো ট্রফি জয় করতে পারিনি, তারপরেও তারা মনে করে যে, আমরা একটা গুরত্বপূর্ণ দেশ।’
মূল বিষয় নিয়ে বুলবুল বলেন, ‘যেগুলো শোনা যাচ্ছিল শাস্তি, পেনাল্টি ইত্যাদি স্টপ করেছি। আইসিসি ইভেন্ট পেয়েছি। ৩১ সালে ভারতের সাথে সম্মিলিতভাবে ওডিআই ওয়ার্ল্ড কাপ করছি। শুধু তাই না বাংলাদেশকে যেন পরবর্তী সময়ে মেজর সিদ্ধান্তগুলোতে সম্পৃক্ত করা হয়। তাও বলা হয়েছে এবং সার্বিক বিষয় তাদেরকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি।’
বিসিবিকে স্যালুট জানাই : আসিফ নজরুল
শুরু থেকেই বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তকে সরকারি সিদ্ধান্ত বলেছে বিসিবি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও এই ব্যাপারে ছিলেন একমত। নিরাপত্তার ব্যাপারে ঝুঁকি থাকায় সরকারের সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপ খেলেনি বাংলাদেশ, এমন কথা বলেছিলেন উপদেষ্টা। যদিও এবার সুর বদলে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ না খেলায় অনুশোচনার প্রশ্নই আসে না। সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলোয়াড়রা, ক্রিকেট বোর্ড। তারা নিজেরা স্যাক্রিফাইস করে, দেশের ক্রিকেটের নিরাপত্তার জন্য, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার জন্য, দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য, বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে যে ভূমিকা রেখেছে, তা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।’
আসিফ নজরুল আরো বলেন, ‘দেখুন তারা যে ক্রিকেট ডিপ্লোমেসিটা করেছে, আইসিসি এখন বলছে আমাদের কোনো শাস্তি দেবে না; বরং একটা বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক আমাদের করবে। দারুণ অর্জন, আমি স্যালুট জানাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে। এ রকম সিদ্ধান্ত ১০ বার এলে ১০ বারই নেয়া উচিত।’
যদিও এর আগে ২২ জানুয়ারি আসিফ বলেছিলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিই, সিকিউরিটি রিস্কের কথা বিবেচনা করে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত- এটা আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত। কোনো দেশে সিকিউরিটি রিস্ক আছে কি না সেই সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।’