তাড়াশে ৭টি রাস্তার কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার, জনদুর্ভোগ চরমে
Printed Edition
লুৎফর রহমান তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) আওতাধীন সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদাররা চলে যাওয়ায় চরম জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। আংশিক কাজ করে বিল উত্তোলনের পর দীর্ঘ দিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয়দের দৈনন্দিন যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এলজিইডি সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তাড়াশ উপজেলায় সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে চাঁদপুর-নামা সিলোট সড়ক নির্মাণে মেসার্স সার্চ ট্রেডিং দুই কোটি ৯৮ লাখ টাকা, বিনোদপুর-কুসুম্বী-বিনসাড়া সড়ক সংস্কারে হাসনা কনস্ট্রাকশন এক কোটি ৪২ লাখ টাকা, নওগাঁ মাজার রোড টু রঙমহল সড়ক সংস্কারে মেসার্স সাব্বির কনস্ট্রাকশন ৬৬ লাখ ১১ হাজার টাকা, উলিপুর-চকজয়কৃষ্ণপুর সড়ক নির্মাণে মেসার্স রাইয়ান কনস্ট্রাকশন ৪৬ লাখ পাঁচ হাজার টাকা, সরাতলা-মাধাইনগর-মাদারজানি সড়ক নির্মাণে ওশান এন্টারপ্রাইজ পাঁচ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, বিনোদপুর-খড়খড়িয়া সড়ক নির্মাণে একই প্রতিষ্ঠান দুই কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং হেদার খাল-কুন্দাইল-ধাপতেতুলিয়া সড়ক নির্মাণে নিশিত বসু অ্যান্ড মীম ডেভেলপমেন্ট ৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকার কার্যাদেশ পায়। সরেজমিন দেখা গেছে, কোনো কোনো সড়কের অর্ধেক, আবার কোথাও সামান্য কাজ করে ঠিকাদাররা দীর্ঘ দিন ধরে লাপাত্তা। এলজিইডির পক্ষ থেকে কাজ শেষ করার জন্য একাধিকবার চিঠি দিলেও তাতে সাড়া মেলেনি।
বিনোদপুর গ্রামের বাসিন্দা আজিজুর রহমান বলেন, এক বছর আগে কার্পেটিং তুলে রাস্তার কাজ শুরু করা হলেও তা শেষ হয়নি। এতে চলাচল ও পণ্য পরিবহন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চকজয়কৃষ্ণপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস জানান, খোয়া বিছিয়ে কাজ ফেলে রাখায় রাস্তাটি আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে ঠিকাদাররা অভিযোগ করছেন, উপজেলা প্রকৌশলী অতিরিক্ত পিসি (ঘুষ) দাবি করায় তারা কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। হাসনা কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার খোকনসহ কয়েকজন এ অভিযোগ করেছেন। তবে উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুল হক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কিছু ঠিকাদার অনৈতিক সুবিধা আদায় করতে না পেরে কাজ বন্ধ রেখে অপপ্রচার করছেন। তাদের বিরুদ্ধে পুনরায় টেন্ডারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক এবং সড়কগুলো দ্রুত চলাচলের উপযোগী করা হোক।