পদ্মার চরের জীবনযাত্রা দেখতে নৌভ্রমণে সাংবাদিকেরা
আশ্বাস দিলেন পাশে থাকার
Printed Edition
মাদারীপুর প্রতিনিধি
পদ্মার বুকে ছুটে চলছে ইঞ্জিনচালিত নৌকা। গন্তব্য পদ্মা সেতু হয়ে পদ্মার চর ভ্রমণ। এতে অংশ নেন দেশের স্বনামধন্য টেলিভিশন, পত্রিকার সম্পাদকের পাশাপাশি জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ঢাকার সাংবাদিক নেতারা। বসন্তের তপ্ত রোদে যখন নাগরিক জীবন ওষ্ঠাগত, তখন প্রমত্তা পদ্মার শীতল হাওয়ায় গা ভাসিয়ে দিনভর আনন্দে মাতলেন দেশবরেণ্য সাংবাদিক নেতারা ও মফস্বলের কলম সৈনিকরা।
সরেজমিন দেখা যায়, কাওড়াকান্দি পুরনো ফেরিঘাট থেকে দেড়ঘণ্টা নৌপথে যাত্রা শেষে ট্রলার পৌঁছায় চরজানাজাত এলাকায় জেগে ওঠা ‘হীরা খার বাজার’-এর পদ্মার চরে। পরে সেখানে দিনব্যাপী নানা আয়োজনে শেষ হয় একদিনের আনন্দভ্রমণ। ইট-পাথরের নগর জীবন থেকে একদিনের জন্য পদ্মার চরাঞ্চলে কাটানো দিনটি যেন হয়ে ওঠে সংবাদকর্মীদের এক মিলনমেলা। শহর ও গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান ও পদ্মার চরের মানুষের সুখ-দুখের কথা শোনেন সাংবাদিক নেতারা। নদীভাঙন কবলিত মানুষের জীবনযুদ্ধ অবলোকন করেন তারা। প্রতিশ্রুতি দেন পদ্মার চরে মানুষের জন্য কাজ করার।
মনমুগ্ধকর এই আয়োজনে খুশি হন আগত অতিথিরা। এমন আয়োজনে ঢাকা ও মাদারীপুরের সাংবাদিকদের মধ্যে তৈরি হবে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ও গভীর বন্ধুত্ব। মাঝে মাঝে এমন আয়োজন করার দাবি জানান অংশ নেয়া সাংবাদিক নেতাদের। রোদ-বৃষ্টি আর ঝড়ে চরাঞ্চলের মানুষের জীবন কেমন কাটে ও তাদের দুর্দশার খবর সংগ্রহে মফস্বলের গণমাধ্যমকর্মীদের কেমন শ্রম দিতে হয়, সেটি সাংবাদিক নেতাদের দেখানোর জন্যই এই আয়োজন বলে জানান আয়োজকরা। মাদারীপুরের শিবচর সাংবাদিক পরিবারের আয়োজনে শনিবারের এই নৌবিহার ভ্রমণে আগত অতিথিদের সবাইকে দেয়া হয় সম্মাননা স্মারক।
আয়োজক আবুল খায়ের খান জানান, দীর্ঘ দিন ধরে পরিকল্পনা ছিল ঢাকার সাংবাদিক নেতাদের একত্র করে পদ্মার চরে মানুষের জীবনযাত্রার মান দেখাব। সেই আশা পূরণ হয়েছে। আশা করছি, সাংবাদিক নেতারা চরের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করবেন।
আমার দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আব্দাল আহমদ বলেন, শিবচর সাংবাদিক পরিবারের আয়োজনে এই আনন্দ ভ্রমণ ছিল মনমুগ্ধকর ও আরামদায়ক। এখানে এসে চরের মানুষের কর্মজীবন দেখে খারাপ লাগছে। তাদের জন্য কিছু করতে পারলে ভালো লাগবে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ বলেন, পদ্মার চরে এই প্রথম ভ্রমণে এসেছি। কিন্তু চরের মানুষের জীবনযাত্রার মান দেখে সত্যিই খারাপ লাগছে। বিষয়টি সরকারের নজরে আনতে সংবাদকর্মীদের কাজ করতে হবে। সেক্ষেত্রে ঢাকায় সম্পাদকদেরও দায়িত্ব রয়েছে, সেগুলো একত্রে পালন করব।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি ও মানবকন্ঠের সম্পাদক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলম, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন, সময় টেলিভিশনের ন্যাশনাল ডেস্ক ইনচার্জ এম এ মান্নান মিয়াসহ মাদারীপুর ও শিবচরে কর্মরত সাংবাদিকরা।