বিভিন্ন জেলায় হামের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
দেশজুড়ে হাম ও রুবেলা নির্মূলে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন জেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে কক্সবাজার, রাজশাহী, গাজীপুর ও বরিশালসহ দেশের ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে এই ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, বিভাগের পাঁচ জেলায় বেশি সংক্রমণপ্রবণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সকাল ৯টায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা কমিউনিটি ক্লিনিকে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, রাজশাহীর স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, গোদাগাড়ী ইউএনও ও সহকারী কমিশনার। কর্মসূচির আওতায় মোট ৫৬ হাজার ৬০০ শিশুকে টিকা দেয়া হবে। ২৭টি কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম চলছে।
বরিশাল ব্যুরো জানায়, বাকেরগঞ্জের দুধল মৌ এলাকায় ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা: শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডলসহ বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এছাড়া বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রামু (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উপস্থিত ছিলেন রামু ইউএনও ফজলে রাব্বানী চৌধুরী। প্রথমদিনে উপজেলার চার ইউনিয়নের দুই হাজার শিশুকে টিকা দেয়া হয়েছে। হামের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে কক্সবাজারের রামু ও মহেশখালী উপজেলায় মোট এক লাখ ২০ হাজার শিশুকে টিকা দেয়া হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, রামুতে এ পর্যন্ত ২০ জন শিশুর এই রোগ শনাক্ত হয়েছে।
জয়দেবপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা: এম এ মুহিত। তিনি বলেন, হামের জিবানুটি দ্রুত ছড়িয়ে পরতে পারে তাই যত বেশি শিশু এই টিকার আওতায় আসবে আমরা তত বেশি নিরাপদ থাকব, বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুর জন্য আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাবো। উপস্থিত ছিলেন বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ডা: রাজেশ নরওয়ান, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ মিজিম ম্যানয়েল, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার সিভিল সার্জন ও সরকারের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা।