শঙ্কায় শরীয়তপুর-২ আসনের নির্বাচন

পক্ষপাতের ছায়া লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

শরীয়তপুর-২ সংসদীয় আসনের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক দল, ভোটার এবং সচেতন মহলের অভিযোগ- জেলার বর্তমান পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা পক্ষপাতমূলক হওয়ায় এই আসনে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

শরীয়তপুর-২ আসনটি গঠিত নড়িয়া উপজেলা ও সখিপুর থানার দুর্গম নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে, যেখানে ভোট কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছানোই প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সখিপুর থানাধীন কাঁচিকাটা ইউনিয়ন নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন, যেখানে প্রায় ১৪ হাজার ৭০০ ভোটার এবং পাঁচটি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ২০২৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে এই অঞ্চলে অস্থায়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র কার্যকর ভূমিকা রাখে। স্থানীয়রা আশা করছেন, জাতীয় নির্বাচনের সময়ও একই ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে ভোটারদের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার হুমকির মুখে পড়বে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ অনুসারে জেলার পুলিশ সুপার রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। জামায়াত সংশ্লিষ্ট কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক গ্রেফতার ও মামলা দায়ের হচ্ছে, তবে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ ছাড়া চাঁদাবাজি ও মাদককারবারে জড়িত ব্যক্তিদের আটক হলেও বিএনপি-ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীদের প্রভাব ও চাপের কারণে অনেক ক্ষেত্রে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের স্বীকার- ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করছেন, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা বিএনপির সমর্থন বাড়ানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। যারা এতে রাজি হচ্ছেন না, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ দিয়ে হয়রানি, রাতের আঁধারে গ্রেফতার ও মামলা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। জামায়াতের বহু কর্মী-সমর্থককেও আওয়ামী লীগের সমর্থক আখ্যা দিয়ে মামলা দেয়ার ঘটনা ঘটছে।

প্রশাসনিক পক্ষপাতের পেছনে পুলিশের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পরিচয়কেও দায়ী করছেন স্থানীয়রা। পুলিশ সুপারের আপন চাচা এবারের নির্বাচনে নেত্রকোনা-৫ আসন থেকে বিএনপি প্রার্থী হওয়ায় নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তীব্র হচ্ছে।