কলেজছাত্রীকে ‘ভুল’ বহিষ্কার ক্ষমা চাইল ট্রাম্প প্রশাসন

Printed Edition

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের এক কলেজছাত্রীকে বহিষ্কারের ঘটনায় ‘ভুল’ হয়েছে বলে আদালতে ক্ষমা চেয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে একই সাথে তারা বিতর্কিতভাবে দাবি করেছে, এই ভুলটি শেষ পর্যন্ত তার মামলার ফলাফলে প্রভাব ফেলবে না।

বাবসন কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ১৯ বছর বয়সী এনি লুসিয়া লোপেজ বেলোজাকে গত ২০ নভেম্বর বোস্টনের বিমানবন্দরে আটক করা হয় এবং দুই দিন পর তাকে হন্ডুরাসে পাঠানো হয়। অথচ ২১ নভেম্বর জারি হওয়া একটি জরুরি আদালতের আদেশে সরকারকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, তাকে অন্তত ৭২ ঘণ্টা ম্যাসাচুসেটস বা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই রাখতে হবে।

লোপেজ বেলোজার পরিবার ২০১৪ সালে হন্ডুরাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসে। বর্তমানে তিনি হন্ডুরাসে তার দাদা-দাদীর সাথে থাকছেন এবং অনলাইনে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এখন আটক অবস্থায় নন এবং সম্প্রতি এল সালভাদরে এক খালার বাসায় গিয়েছিলেন।

তার ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ে আদালতের আদেশ অমান্য করে চালানো একাধিক বহিষ্কারের সর্বশেষ উদাহরণ। কিলমার আব্রেগো গার্সিয়াকেও আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এল সালভাদরে পাঠানো হয়েছিল, পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়। গত জুনে ওসিজি নামে পরিচিত এক গুয়াতেমালান নাগরিককেও পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয়, যখন এক বিচারক বলেন, মেক্সিকো থেকে তার বহিষ্কার ‘ন্যূনতম আইনি প্রক্রিয়ার কোনো ছাপই রাখেনি।’

মঙ্গলবার বোস্টনের ফেডারেল আদালতে শুনানিতে সরকার দাবি করে, আদালতের এখতিয়ার নেই, কারণ লোপেজ বেলোজার আইনজীবীরা মামলা দায়ের করেছিলেন টেক্সাসে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা পর, যখন তাকে দেশ থেকে বের করে নেয়া হচ্ছিল। তবে একই সাথে সরকার স্বীকার করে, তারা বিচারকের আদেশ লঙ্ঘন করেছে।

আদালতে দাখিল করা নথি ও প্রকাশ্য শুনানিতে সরকারি আইনজীবীরা জানান, আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট)-এর এক বহিষ্কার কর্মকর্তা ভুলভাবে ধরে নিয়েছিলেন যে, লোপেজ বেলোজা ম্যাসাচুসেটস ছেড়ে যাওয়ায় আদেশটি আর কার্যকর নয়। ওই কর্মকর্তা সেই সতর্কতামূলক সিস্টেম চালু করেননি, যা অন্য আইসিই কর্মকর্তাদের জানায় যে মামলাটি বিচারাধীন এবং বহিষ্কার স্থগিত রাখতে হবে।

সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি মার্ক সাউটার বিচারককে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বুঝতে পেরেছেন যে, তিনি ‘ভুল করেছেন’। সাউটার আরো বলেন, এটি ছিল ‘একজন ব্যক্তির অনিচ্ছাকৃত ভুল, ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের আদেশ অমান্য নয়।’

তার আইনজীবী টড পোমারলু পাল্টা যুক্তি দেন, ২১ নভেম্বরের আদেশ সরাসরি লঙ্ঘন করেই তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং এতে তার ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, আমি আশা করেছিলাম সরকার কিছুটা মানবিকতা দেখিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনবে। তারা আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করেছে। মার্কিন জেলা বিচারক রিচার্ড স্টার্নস সরকারের ভুল স্বীকারকে স্বাগত জানিয়ে একে ‘দুঃখজনক’ ডেমোক্র্যাটিক ভুল বলে উল্লেখ করেন। তবে তিনি সরকারকে আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করার সম্ভাবনা নাকচ করেন, কারণ লঙ্ঘনটি ইচ্ছাকৃত বলে মনে হয়নি।