কোনো শক্তিই দেশকে বিরাজনীতিকরণ করতে পারবে না : মঈন খান

Printed Edition
3rd-1
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত শোক সভা ও দোয়ায় ড. মঈন খানসহ বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

কোনো শক্তি বা পরাশক্তিই দেশকে বিরাজনীতিকরণ করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের রক্তে রয়েছে রাজনীতি। তাদের রক্তে রয়েছে গণতন্ত্র। কাজেই বাংলাদেশকে কোনো শক্তি বা পরাশক্তি বিরাজনীতিকরণ করতে পারবে না, এটা আমি বিশ্বাস করি।

গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে শোক সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মঈন খান এ সব কথা বলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ২০০৮ সালে দেশে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেটি ছিল একটি সাজানো নির্বাচন। দেশী-বিদেশী বিভিন্ন শক্তির সমন্বয়ে এই নির্বাচনটি আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে এমন একটি শক্তি কাজ করেছিল, যারা বাংলাদেশকে বিরাজনীতিকীকরণ করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা সফল হয়নি।

মঈন খান বলেন, বেগম জিয়া ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শুধু নির্যাতন-নিপীড়নেরই শিকার হননি, তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোণিত মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু তবুও তিনি সহ্য করে গেছেন। আমি একদিন তাকে বলেছিলাম, ম্যাডাম আপনার ওপর এসব মিথ্যা মামলা নিয়ে আমরা কিছু করতে চাই। তখন তিনি বলেন, না, না, কিছুই প্রয়োজন নেই। আমি নিয়মের মাধ্যমে প্রমাণ করব তাদের এ সব কিছু মিথ্যা। আমি নির্দোষ। আর এই প্রমাণ জনগণও দেখবে।

তিনি বলেন, অবশেষে চব্বিশের ৫ আগস্ট জয় হয়েছে। যারা বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে, যারা দেশে গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করেছিল, যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বলে নিজেদের দাবি করেও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও নীতির বিরুদ্ধে কাজ করেছিল, তাদের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। প্রমাণ হয়েছে খালেদা জিয়াই সত্য। জনগণের কাছেও স্পষ্ট হয়েছে।

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও জাগপার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে এবং জোটের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এস এম শাহাদাতের সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড ডা: সৈয়দ নুরুল ইসলাম, এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান এম এন শাওন সাদেকী ও মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বারিক, ডেমোক্র্যাটিক লীগের (ডিএল) সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাস ও সহসভাপতি মো: মাহবুব আলম, এনডিপির চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হারুন সোহেল ও মহাসচিব জামিল আহমেদ, গণদলের মহাসচিব সৈয়দ আবু সাঈদ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব রেজওয়ান মোর্তজা, জাগপার প্রেসিডিয়াম সদস্য আওলাদ হোসেন শিল্পী প্রমুখ। পরে খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মুনাজাত করা হয়।