জুলাইয়ে হত্যায় জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলার উদ্যোগ
৩ দফা দাবি ও কর্মসূচি ঘোষণা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
Printed Edition
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এ লক্ষ্যে সারা দেশে যেসব থানার আওতায় ছাত্রজনতা শহীদ হয়েছেন, সেসব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং সংশ্লিষ্ট জেলা ও ঊর্ধ্বতন কমান্ডিং অফিসারদের তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি রিফাত রশিদ, মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম এবং সিনথিয়া জাহীন আয়েশাসহ প্ল্যাটফর্মটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রস্তুতকৃত তালিকাটি আইসিটি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে মামলা করা হবে। একই সাথে জুলাইযোদ্ধা মাহাদী ও তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে নিঃশর্ত মুক্তি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর অবদান রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত করার দাবিতে তিন দফা দাবি ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে জানানো হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সারা দেশে যেসব থানার অধীনে ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন, সেসব থানার ওসি থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট জেলার এসপি ও ঊর্ধ্বতন কমান্ডিং অফিসারদের তালিকা চূড়ান্ত করে আইসিটি ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে। একই সাথে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারির দাবিতে আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সাথে মতবিনিময় করা হবে। এ ছাড়া নির্বাচনকালীন বৃহত্তম দু’টি জোটের প্রধানদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জুলাইয়ের বৈপ্লবিক চেতনা ও বিপ্লবীদের নিরাপত্তার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার কর্মসূচিও চলমান থাকবে।
এ ছাড়া জুলাই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ সামরিক, আধা-সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবদান ইতিহাসে লিপিবদ্ধ করা, তাদের সম্মাননা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে হয়রানি রোধে একটি স্থায়ী কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ সালের পর ফ্যাসিবাদের রোষানলে পড়ে সশস্ত্রবাহিনীতে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের দ্রুত পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের দাবি তোলা হয়।
একই সংবাদ সম্মেলনে সদ্য জামিনপ্রাপ্ত জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক ছাত্রীকে কারাগারে ‘গুম’ করে রাখার অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, জবির অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানজিলা তাবাসসুমকে গোপনে কারাগারে রাখা হয়েছে, যার বিষয়ে তার পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেউই অবগত নয়।
সুরভী বলেন, তার পরিবার জানে তিনি কারাগারে ছিলেন, কিন্তু তানজিলার পরিবার জানে সে হলে রয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানে সে বাসায় আছে এভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে তাকে জেলে গুম করে রাখা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবাদী কণ্ঠ রোধ করতেই শিক্ষার্থীদের এভাবে বন্দী করে রাখা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে সদ্য জামিনপ্রাপ্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্যসচিব মাহদী হাসানও তার জামিন-পরবর্তী অভিজ্ঞতা ও কারাভোগের কথা তুলে ধরেন।