জর্দানকে উড়িয়ে গ্রুপসেরা আর্জেন্টিনা

Printed Edition
khela-2
জর্দানকে উড়িয়ে গ্রুপসেরা আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক

ডালাসে আরেকটি স্মরণীয় রাত উপহার দিলেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের নাম আরো উজ্জ্বল করে লিখলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে গোল করার মাধ্যমে তিনি হয়ে গেলেন বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্বে টানা সাত ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার। তার গোলেই জর্দানকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জে’ পর্ব শতভাগ জয় নিয়ে শেষ করেছে আর্জেন্টিনা।

‘জে’ গ্রুপের অপর খেলায় আলজেরিয়া ৩-৩ গোলে ড্র করেছে অস্ট্রিয়ার সাথে।

শনিবার ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কোচ লিওনেল স্কালোনি একাদশে বড় পরিবর্তন আনেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জেতা দল থেকে মোট নয়টি পরিবর্তন করা হয়। মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়ে দ্বিতীয় সারির দল নিয়েও শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হওয়া জর্দান শুরুতে কিছুটা সংগঠিত ফুটবল খেললেও আর্জেন্টিনার আক্রমণের সামনে বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি। ১৯ মিনিটে প্রথম গোল পায় আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠের অন্যতম সক্রিয় খেলোয়াড় জিওভানি লো সেলসো ফাউলের শিকার হওয়ার পর পাওয়া ফ্রি-কিক থেকেই এগিয়ে যায় দল। প্রায় ২০ মিটার দূর থেকে নেয়া বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে জর্দানের গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবুলাইলাকে পরাস্ত করেন লো সেলসো। বল দেয়াল ঘুরে জালে জড়িয়ে গেলে উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টাইন সমর্থকরা।

গোলের পর আক্রমণের গতি আরো বাড়ায় আর্জেন্টিনা। ৩১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লাউতারো মার্তিনেজ। এর আগে লিয়ান্দ্রো পারেদেস বক্সে ফাউলের শিকার হলে ভিএআর পর্যালোচনার পর পেনাল্টি দেয় রেফারি। স্পট-কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে দলের নিয়ন্ত্রণ আরো শক্ত করেন ইন্টার মিলানের এই ফরোয়ার্ড।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জর্দান কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। ৫৫ মিনিটে অধিনায়ক এহসান হাদাদের নিচু ক্রস থেকে বদলি খেলোয়াড় মুসা আলতামারি গোল করে ব্যবধান কমান। এই গোলটি ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের প্রথম হজম করা গোল। গোল খাওয়ার কিছু পরই দর্শকদের অপেক্ষার অবসান ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টার মাথায় মাঠে নামেন লিওনেল মেসি। গ্যালারিজুড়ে তখন শুধু মেসির নামধ্বনি।

৮০ মিনিটে নিজের জাদু দেখান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। গোল থেকে প্রায় ২৫ মিটার দূরে ফাউল আদায় করে নিজেই ফ্রি-কিক নেন। নিচু শটে দেয়াল ঘুরিয়ে বল জালে পাঠিয়ে বিশ্বকাপে নিজের ১৯তম গোল করেন তিনি। একই সাথে ভেঙে দেন ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন ও ব্রাজিলের জাইরজিনহোর রেকর্ড, টানা সাত বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার মিয়ামি তারকা।

ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‘ছেলেরা দারুণ খেলেছে। সবাইকে খেলার সুযোগ দিতে পেরে ভালো লাগছে। লো সেলসো আগের বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি, লাউতারোও গোল পাচ্ছিল না। এখন আসল সময় শুরু হচ্ছে।’

অন্য দিকে জর্দানের গোলদাতা মুসা আলতামারি বলেন, ‘এটাই আমাদের প্রথম বিশ্বকাপ ছিল। খেলোয়াড়দের জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে। আশা করি এটিই শেষ নয়।’

টানা তিন জয়ে গ্রুপসেরা হয়ে শেষ ৩২-এ উঠেছে আর্জেন্টিনা। এখন তাদের সামনে নতুন পরীক্ষা। ৩ জুলাই মিয়ামিতে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের জন্য অপেক্ষা করছে আফ্রিকার অভিষিক্ত দল কেপ ভার্দে। তবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের আত্মবিশ্বাস বলছে, তাদের সেরা অধ্যায় হয়তো এখনো বাকি। এদিকে রিয়াদ মাহারেজের জোড়া গোলে অস্ট্রিয়ার সাথে ড্র করে আলজেরিয়াও সেরা তৃতীয় দল হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে। আগামী ২ জুলাই সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে মুখোমুখি হবে তারা।