সুদানে বিদেশী হস্তক্ষেপের নিন্দা সৌদি আরবের

Printed Edition

আলজাজিরা

সৌদি আরব সুদানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও ঐক্যের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা উত্তর ও দক্ষিণ কোরদোফান প্রদেশে আধাসামরিক র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) হামলাকে অপরাধমূলক আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে। এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ নিহত হয়েছেন।

শনিবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু পক্ষ সুদানে বিদেশী হস্তক্ষেপ করছে। তারা অবৈধ অস্ত্র, ভাড়াটে সৈন্য ও বিদেশী যোদ্ধা পাঠাচ্ছে, যা প্রায় তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধকে আরো দীর্ঘায়িত করছে। তবে বিবৃতিতে কোনো পক্ষের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এর একদিন আগে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছিল, উত্তর কোরদোফানে বাস্তুচ্যুত পরিবার বহনকারী একটি গাড়িতে আরএসএফের ড্রোন হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আটজন শিশু। একই এলাকায় মানবিক সহায়তা বহনকারী কনভয় ও জ্বালানি ট্রাকের ওপরও একাধিক হামলা চালানো হয়। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির একটি কনভয়ের ওপর হামলায় অন্তত একজন নিহত হন। গত অক্টোবর এল-ফাশের শহর আরএসএফের দখলে যাওয়ার পর থেকে কোরদোফান অঞ্চলে সংঘর্ষ আরো তীব্র হয়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে চলা এ সংঘাতে আনুমানিক ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ২ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ তীব্র খাদ্য সঙ্কটে পড়েছেন।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আরএসএফের এসব হামলা কোনোভাবেই ন্যায্য নয় এবং মানবিক নীতি ও আন্তর্জাতিক চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা দাবি করেছে, আরএসএফ অবিলম্বে এসব হামলা বন্ধ করবে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে সহযোগিতা করবে। সুদান সরকার অভিযোগ করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত আরএসএফকে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সহায়তা করছে। এ কারণে তারা আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করেছে, যেখানে আরএসএফের বিরুদ্ধে পশ্চিম দারফুরে মাসালিত সম্প্রদায়ের ওপর গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আমিরাত এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অন্য দিকে সৌদি আরব ইয়েমেনে বিচ্ছিন্নতাবাদী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলকে (এসটিসি) সমর্থন দেয়ার অভিযোগও আমিরাতের বিরুদ্ধে তুলেছে। গত ডিসেম্বর এসটিসি ইয়েমেনের হাদরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশে বড় ধরনের অভিযান চালায়, আলাদা রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে। এতে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারে বিভাজন সৃষ্টি হয় এবং সৌদি আরব পাল্টা হামলা চালায়।

পরে আমিরাত ইয়েমেন থেকে সেনা প্রত্যাহার করে জানায়, তারা সৌদি আরবের নিরাপত্তাকে সমর্থন করে। সৌদি আরব ও আমিরাত আগে আরব সামরিক জোটের অংশ ছিল, যা ২০১৫ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় নিয়ন্ত্রণ নেয়া হাউছি বিদ্রোহীদের মোকাবিলায় গঠিত হয়েছিল।