ভিজিএফের ৩৩০০ কেজি চাল জব্দ নেপথ্যে পরিষদ চেয়ারম্যান
Printed Edition
বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ৫ নম্বর জারইতলা ইউনিয়নে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বরাদ্দকৃত ভিজিএফের ৩৩০০ কেজি চাল জব্দ করা হয়েছে। দুস্থ ও অসহায়দের জন্য বরাদ্দ করা এই চাল বিতরণে অনিয়ম ও কালোবাজারে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান ইসহাক রানার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রশাসনের একটি অংশের মধ্যে তৎপরতা লক্ষ করা গেলেও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে গত শনিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
জানা যায়, গত ১৯ মার্চ ৩৭ হাজার কেজি চাল, ৩ হাজার ৭০০ কার্ডধারীর মধ্যে বিতরণের কথা ছিল। তবে বিতরণের প্রথম দিনেই ব্যাপক অনিয়ম ও দালাল চক্রের মাধ্যমে চাল বিক্রির চেষ্টার সময় হাতেনাতে ধরে ফেলেন ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজ। তাৎক্ষণিক তিনি বিষয়টি ইউএনও রেহেনা মজুমদার মুক্তিকে জানালে তার নির্দেশে চাল জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিষদের কক্ষগুলোতে একাধিক তালা ঝুলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর আওয়ামীপন্থী মূল চেয়ারম্যান আজমল হোসেন আত্মগোপনে চলে গেলে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন ইসহাক রানা। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করেছেন। দুস্থরা ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও অনেককে ওজনে কম দেয়া হয়েছে, আবার অনেক প্রকৃত সুবিধাভোগী তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও চাল বঞ্ছিত হয়েছেন। এমনকি সৌদি সরকারের দেয়া দুম্বার গোশত ও খেজুর বিতরণেও ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু জানান, ব্যক্তিগত অপরাধের দায় দল নেবে না এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙের দায়ে আগেই ইসহাক রানাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ইউএনও রেহেনা মজুমদার মুক্তি বলেন, জব্দকৃত চাল এতিমখানায় বিতরণ করা হবে। তবে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রশ্নে তিনি এড়িয়ে যান।