বিরোধীদলীয় নেতার মন্তব্য

রাষ্ট্রপতি অনেক কিছুই চেপে গিয়েছেন

Printed Edition
first-3
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সাধারণ অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ডা: শফিকুর রহমান : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিষয়ে রাষ্ট্রপতি অনেক কিছুই চেপে গিয়েছেন। কথিত পলাতক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে উনি উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে যা বলেছিলেন এবং পরবর্তীতে জাতিকে যা জানিয়েছিলেন তার বর্তমান বক্তব্যে তিনি তা স্বীকার করেননি। আর এখন যা বলছেন সেদিন তার কিছুই তিনি বলেননি। কোটি কোটি মানুষ যা শুনলো এবং সেদিন তিনি যা বললেন আর এখন যা বলছেন তার হিসেব রাষ্ট্রপতি মিলিয়ে দেবেন কি?

গতকাল ফেসবুকের এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জাতি অবুঝ নয়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে এ রকম আচরণ অগ্রহণযোগ্য।

পিলখানায় সেনাহত্যার ‘প্রকৃত রহস্য’ উদ্ঘাটনের দাবি : ২০০৯ সালে পিলখানায় সেনাহত্যার ‘প্রকৃত রহস্য’ উদ্ঘাটন করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, সমঝোতার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণের পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় পরিকল্পিতভাবে ৫৭ জন চৌকস সেনাকর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে মর্মান্তিকভাবে হত্যা করে। আমরা নিহতদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি ও তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। সেই সাথে তাদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে হত্যা করে মূলত দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলার ষড়যন্ত্র করে। স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকার এই দুঃখজনক ও মর্মান্তিক ঘটনায় অনেক নিরীহ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে বিচারের নামে প্রহসনের আয়োজন করে। তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দিয়ে কারাগারে আটক রাখে। অনেকে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও ফ্যাসিস্ট সরকারের ষড়যন্ত্রের কারণে তাদের মুক্তি মেলেনি।

২৪-এর আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরাচারের পতন ঘটে। দেশ আজ স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তিলাভ করেছে। নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। জনগণ ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি সেনা হত্যার নির্মম ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে চায়। আমরা বর্তমান সরকারের কাছে দেশপ্রেমিক সব সেনা হত্যার ‘প্রকৃত রহস্য’ উদ্ঘাটন করে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।

যেসব নিরীহ-নিরপরাধ ব্যক্তি কারাগারে আটক আছেন তাদেরকে অবিলম্বে মুক্তি এবং যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। এ উপলক্ষে সারা দেশে জামায়াতে ইসলামীর শাখা সংগঠনের পক্ষ থেকে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের আহ্বান জানাচ্ছি।

চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদারকে নির্যাতনের প্রতিবাদ : ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ এলাকায় চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদারকে নির্যাতন চালানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, গত ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ এলাকার ঠিকাদার নিজাম উদ্দিনকে ইফতারের পর মসজিদ থেকে তুলে নিয়ে আটক করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে ৪-৫ ঘণ্টা ঝুলিয়ে নির্যাতন চালিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। আমি এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, ঠিকাদার নিজামউদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের সেক্রেটারি ফয়েজ আহমেদ শাহিন কিছু দিন ধরে তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে ফয়েজ আহমেদ শাহিন ও তার ক্যাডার বাহিনী তাকে গত ২০ ফেব্রুয়ারি ইফতারের পর মসজিদ থেকে ধরে তাদের টর্চার সেলে নিয়ে যায়। সেখানে তারা তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে উলটো করে ঝুলিয়ে ৪-৫ ঘণ্টা নির্যাতন চালায়। ফলে তার নাক-মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে সন্ত্রাসীরা হাসনাবাদ পোস্তগোলা ব্রিজের নিচের রাস্তায় তাকে ফেলে চলে যায়। এ ঘটনার দ্বারাই বুঝা যাচ্ছে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আবার দেশে নতুনভাবে চাঁদাবাজি, জুলুম-নির্যাতন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। দেশ আবার দ্রুত নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের দিকে জোর কদমে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশবাসী সবাই অবগত আছেন যে, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের অঙ্গীকার ছিল সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজ মুক্ত দেশ গড়া। কিন্তু তারা ক্ষমতায় এসেই আবার আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের দেখানো পথেই অগ্রসর হচ্ছে। বর্তমান ক্ষমতাসীনরা আওয়ামী লীগের পতন থেকে কোনো শিক্ষাই গ্রহণ করেনি। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করার জন্য আমি সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

শিবিরের কার্যকরী পরিষদের সাধারণ অধিবেশনে ডা: শফিক

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, মানুষের নৈতিক সৌন্দর্য যখন অন্যদেরকে আকৃষ্ট করে, তখন পৃথিবীর কোনো শক্তিই তাদের বিজয়কে রোধ করতে পারবে না।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ-২০২৬-এর দিনব্যাপী প্রথম সাধারণ অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন। শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সকাল ৮টায় দারসুল কুরআনের মাধ্যমে অধিবেশনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দারসুল কুরআন পেশ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম।

অধিবেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন শহীদ মো: রেজবুন হকের (প্লাবন) বাবা মো: আজাদুল ইসলাম। অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।

সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (এমপি) ও জাহিদুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিরে জামায়াত বলেন, ‘আগামী দিনের স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পালনের জন্য সংগঠনের জনশক্তিকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। তৃণমূল থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে বৃহত্তর পরিসরে নেতৃত্ব প্রদানের যোগ্যতা অর্জনে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিজয়ের ধারাবাহিকতায় নৈতিকতার ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। ছাত্রশিবিরের দৃশ্যমান শক্তি ও মর্যাদা জায়গা হলো নৈতিকতা। সুতরাং নৈতিকতার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় বা আপস গ্রহণযোগ্য নয়।’

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘নামাজ হলো নৈতিকতার ভিত্তি। কোনো অজুহাতেই নামাজের ব্যাপারে শিথিলতা গ্রহণযোগ্য নয়। যুবক বয়স থেকেই যারা গোপন ও প্রকাশ্য নফল ইবাদতে অভ্যস্ত হন, আমৃত্যু তার ব্যবহারিক জীবনে এর প্রভাব থেকে যায়।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, ‘কার্যকরী পরিষদ সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও কার্যক্রম বাস্তবায়নের সংগঠনের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক কাঠামো। এ পরিষদের সদস্য হিসেবে প্রত্যেককে সর্বপ্রথম নিজেদের আত্মতত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ সা:-এর শেখানো পদ্ধতিতে এবং সাহাবায়ে কেরামের আন্তরিকতা, আনুগত্য ও দায়িত্ববোধের অনুভূতি ও মানসিকতা ধারণ করে কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টিকে একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে নিষ্ঠা, তাকওয়া ও জবাবদিহিতার চেতনায় নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, আগামী দিনের বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকরী পরিষদকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সংগঠনের জনশক্তিদের নৈতিক মান উন্নয়ন, আদর্শিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি এবং চারিত্রিক পবিত্রতা সংরক্ষণে নিবিড় তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জনশক্তিদের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি, সমসাময়িক পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক উপলব্ধি গড়ে তোলা এবং তাদের দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত, দায়িত্বশীল ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

দিনব্যাপী এ অধিবেশনে কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা ও শপথ গ্রহণ, বার্ষিক পরিকল্পনা ২০২৬ প্রস্তাবনা পেশ, পর্যালোচনা ও অনুমোদন, সেক্রেটারিয়েট গঠন এবং অঞ্চল পরিচালক নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়াও বিদায়ী কার্যকরী পরিষদ সদস্য ভাইদের বক্তব্য, মেহমানের বক্তব্য, ইহতেসাব, কেন্দ্রীয় সভাপতির সমাপনী বক্তব্য, দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে অধিবেশন সমাপ্ত হয়।

হঠাৎ অসুস্থ জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানী শেওড়াপাড়া এলাকায় কাফরুল পশ্চিম থানার উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে যাওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা বলেন, আজকের ইফতার মাহফিলে জামায়াত আমিরের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তিনি যাত্রাও করেছিলেন।

হঠাৎ যাত্রাপথে তিনি বমি করেন এবং শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে যান। যার কারণে তিনি প্রোগ্রামস্থলে আসতে পারেননি। সবাই তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করবেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন বলেন, আমরা জামায়াত আমিরের জন্য দোয়া করি-আল্লাহ যেন ওনাকে দ্রুত সুস্থ করে দেন।