নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখতে মধ্যরাতে রাজপথে আইজিপি

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

দায়িত্ব গ্রহণের দু’দিন পরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করতে মধ্যরাতে রাজপথে নামলেন নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো: আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, অপরাধী যেই হোক তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নতুন আইজিপি। তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারিদের তৎপরতায় সাধারণ মানুষ ভীতির মধ্যে আছেন। এ কারণে আমি নিজেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাস্তায় নেমেছি। ‘নিজে রাস্তায় থাকলে সহকর্মীরা কাজে উৎসাহ পাবেন, সহাস পাবেন’।

আইজিপি আরো বলেন, রাজধানীতে ফুটপাথ দখল হয়ে যাওয়ার পর এখন সড়কও দখলের শিকার। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে অর্থনীতি ও বিনিয়োগ দু’টিই ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, দেশে প্রায় ২০ কোটি মানুষের বিপরীতে পুলিশের সদস্যসংখ্যা মাত্র দুই লাখ ২০ হাজার, আর ঢাকা শহরেই প্রায় চার কোটি মানুষের বসবাস। তাই নাগরিকদের স্বস্তি নিশ্চিত করতে সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে ট্রাফিক বিভাগকে পুনর্গঠনের কাজ চলছে বলেও জানান।

তিনি বলেন, ১৯৮৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এক আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার পথে মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলেন আইজিপি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, মোহাম্মদপুর দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধপ্রবণ এলাকা, যেখানে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি ভাঙ্গারি ও বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার বিস্তার রয়েছে। সন্ধ্যার পর বিশেষ ব্লক রেইড পরিচালনা করে ছিনতাইকারী থেকে শুরু করে মাদকসংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিনি নিজেও রাতে টহলে থাকার ঘোষণা দেন। তার ভাষ্য, আমি রাস্তায় থাকলে সহকর্মীরাও আরো সক্রিয় থাকবে এবং আইন প্রয়োগে কঠোরতা বাড়বে।

আইজিপি বলেন, সাধারণ মানুষ পুলিশের পাশে রয়েছে এবং যে-ই অপরাধী হোক কঠোরভাবে দমন করা হবে। হোয়াইট-কলার অপরাধীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন না করে প্রচলিত আইনের মধ্যেই শক্তি প্রয়োগ করা হবে এবং কার্যকর পুলিশিংয়ের জন্য বাহিনীর মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। তার মতে, শুধু পোশাক বা সরঞ্জাম নয়; পুলিশকে প্রকৃত অর্থে জনসেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন আইজিপি।

এ সময় ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো: সরওয়ার ও তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজানসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।