তিন জেলায় ঠাণ্ডায় জমে যাচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ

Printed Edition
bangla-3
নীলফামারীতে কুয়াশাচ্ছন্ন ফসলি ক্ষেত : নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

গত কয়েক দিন ধরে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠাণ্ডায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে। নীলফামারী, চুয়াডাঙ্গা ও নওগাঁসহ বেশ কয়েকটি জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে, যা নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য বাড়িয়ে দিয়েছে দুর্ভোগ।

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, গত দুই-তিন ধরে কনকনে ঠাণ্ডা বিরাজ করছে উত্তরের জেলা নীলফামারীতে। সেই সাথে ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এ জেলার দরিদ্র ও প্রান্তিক শ্রেণীর জনগণ। সড়ক-মহাসড়কে দিনের বেলায় ঘন কুয়াশার কারণে হেড লাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষজন বিশেষ করে ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদীর কোল ঘেঁষা গ্রাম ও চরের মানুষদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে। নীলফামারী পুরাতন রেলস্টেশন এলাকার ফেরিওয়ালা খলিল হোসেন (পেচি) জানান, গত দুই দিন ধরে ঘন কুয়াশা আর ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে কাজে যেতে পারিনি। সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ লোকমান হোসেন জানান, সোমবার সকাল ৭টায় নীলফামারীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গায় টানা দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। ঘন কুয়াশা ও মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ার সাথে মৃদু বাতাস যোগ হওয়ায় জেলাজুড়ে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। দিনভর কনকনে ঠাণ্ডায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। তবে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার দুপুরের মধ্যে সূর্যের দেখা মিলতে পারে। যদিও সকাল ৯টার পর কয়েক মিনিটের জন্য সূর্য উঁকি দিলেও তা দ্রুতই মিলিয়ে যায়। চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৯৭ শতাংশ। ঘন কুয়াশার কারণে আকাশ ছিল ধূসর। শীত ও কুয়াশায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। শীত থেকে বাঁচতে অনেককে খড়, পুরনো কাপড় জড়িয়ে কিংবা খোলা স্থানে আগুন জ্বালাতে দেখা গেছে। ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। তীব্র ঠাণ্ডায় রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতিও তুলনামূলকভাবে কমে গেছে।

পতœীতলা (নওগাঁ) সংবাদদাতা জানান, নওগাঁ জেলার পতœীতলা উপজেলায় শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে নেমে এসেছে দুর্দশা। সেই সাথে জেলা সদরের নজিপুর পৌর এলাকার ফুটপাথের দোকানগুলোতে গরম কাপড় বিক্রিও বেড়ে গেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে দেখা যায়, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষরা ফুটপাথের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন। বিক্রেতারা জানান গত কয়েক দিন ধরে ঠাণ্ডা বাড়ায় তাদের বিক্রি বেশ বেড়ে গেছে।