জমি অধিগ্রহণে কালক্ষেপণ, নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি সেচ প্রকল্প

Printed Edition

এস এম রহমান পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের পটিয়ায় ১২৯১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন, সেচ ও আধুনিক এলিভেটর ড্যাম নির্মাণ প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না। মূলত ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা এবং কারিগরি নকশা প্রণয়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলছে। ফলে নির্ধারিত মেয়াদে প্রকল্পের সুফল পাওয়া নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সংশয় তৈরি হয়েছে।

এই প্রকল্প দু’টি বাস্তবায়িত হলে পটিয়ায় ১০ হাজার ৬৫০ একর জমি নতুন করে সেচের আওতায় আসবে। লবণাাক্ততা থেকে মুক্তি পাবে ৩৩ হাজার ৬১০ একর জমি। বছরে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে প্রায় ৪২৫ কোটি টাকা। কিন্তু আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণে কালক্ষেপণ ও সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারায় এই বিশাল আর্থিক সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়, পটিয়া ও শ্রীমাইখালে আধুনিক প্রযুক্তির মাল্টিপারপাস হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম এবং সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২১ সালে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। ১২৯১ কোটি টাকার এই প্রকল্পে এ পর্যন্ত ভৌত অগ্রগতি সন্তোষজনক দাবি করা হলেও আর্থিক ও কারিগরি ক্ষেত্রে কাজের গতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম।

প্রকল্পের ধীরগতির অন্যতম কারণ হিসেবে ১৪৪.৪৪ একর জমি অধিগ্রহণের জটিলতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ বাবদ ৫৬৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও ১২০০ ভূমি মালিকের পাওনা পরিশোধ প্রক্রিয়া এখনো চলমান। এ ছাড়া প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হাইড্রোলিক স্ট্রাকচারের একেকটি নকশা তৈরি করতে ৩ থেকে ৪ মাস সময় ব্যয় হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত বিন সাহীদ বলেন, নকশা জটিলতা ও জমি অধিগ্রহণে সময় বেশি ব্যয় হয়েছে। ফলে সঙ্গতকারণেই মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।