আফগানিস্তান সিরিজে নিরাপত্তা জোরদার আয়ারল্যান্ডের

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ শুরু হচ্ছে আগামী ৫ আগস্ট। তবে এ সিরিজ আয়োজনকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড। তালেবান শাসনে আফগান নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, খেলাধুলা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে সিরিজটি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে নৈতিক প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

সমালোচনার মধ্যেই সিরিজ চলাকালে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের আশঙ্কা দেখা দেয়ায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের পুলিশ সার্ভিসের (পিএসএনআই) সাথে নিয়মিত সমন্বয় করছে আয়োজকরা।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর আফগানিস্তানে নারীদের খেলাধুলা কার্যত নিষিদ্ধ হয়ে পড়ে। অনেক নারী ক্রিকেটার নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এ পরিস্থিতির প্রতিবাদে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলছে না, যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে দলগুলো একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে।

চলতি বছর দায়িত্ব নেয়া ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী সারাহ কিয়েনও স্বীকার করেছেন, আফগান নারীদের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় সিরিজটি আয়োজন করতে গিয়ে তাদের মধ্যে ‘নৈতিক অস্বস্তি’ কাজ করছে। তিনি বর্তমানে আইসিসির একটি বিশেষ প্রতিনিধিদলের সদস্য, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে শরণার্থী আফগান নারী ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে আনা।

এদিকে পিএসএনআই জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও তা আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বিঘিœত করতে পারবে না। কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও সিরিজ চলাকালে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সাথে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড ও আইসিসির প্রতি আফগান নারীদের অধিকার নিয়ে আরো সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি সতর্ক করেছে, যেন এই সিরিজ তালেবানের প্রচারণার হাতিয়ারে পরিণত না হয়।