বিক্রয়চাপ সামলে দিনশেষে উন্নতি পুঁজিবাজার সূচকের

পতন সামলে নিলেও গতকাল বড় ধরনের অবনতি ঘটে ঢাকা শেয়ারবাজারের লেনদেনে

Printed Edition

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

পতনের বড় ধাক্কা সামলে নিলো পুঁজিবাজার। রোববারের ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার সকালে পুঁজিবাজারগুলো প্রচণ্ড বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে। কিন্তু প্রথমদিকে শুরু হওয়া বিক্রয়চাপ দ্রুতই সামলে নেয় বাজার। পরবর্তীতে নতুন করে বিক্রয়চাপ তৈরি হলেও লেনদেনের শেষদিকে এসে তাও সামলে নেয় ঢাকা শেয়ারবাজার। এতে সূচকের মিশ্র আচরণেই দিন শেষ করে বাজারটি। তবে দেশের দ্বিতীয় চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে সবগুলো সূচকেরই কমবেশি অবনতি ঘটে।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ও দক্ষিণ আমেরিকার ভেনিজুয়েলায় শুরু হওয়া অস্থিরতার কারণেই রোববার পুঁজিবাজার সূচকের বড় ধরনের অবনতি ঘটে। সোমবারও দিনের শুরুতে এরই ধারাবাহিকতা ছিল। কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিনিয়োগকারীরা ভীতি কাািটয়ে উঠতে সক্ষম হলে বিক্রয়চাপের স্থলে ক্রয়চাপ বেড়ে যায়। যা দিনশেষে হারানো সূচকের সবটুকুই ফিরে পায় প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। গতকাল বিনিয়োগকারীদের এ ভূমিকাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা। কারণ, সামান্য কোনো কারণেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বিনিয়োগকারীরা যা নিজেদের লোকসান বৃদ্ধির পাশাপাশি পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক আচরণকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাজার পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ধৈর্যই লোকসান কমাতে পারে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ২ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। সকালে চার হাজার ৯৩৯ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা সূচকটি সোমবার দিনশেষে চার হাজার ৯৪২ দশমিক ০৫ পয়েন্টে স্থির হয়। তবে লেনদেনের শুরুতেই বড় ধরনের বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে বাজারটি। মাত্র ২০ মিনিটের মাথায় সূচকটি নেমে আসে চার হাজার ৯১৮ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে সূচকটির প্রায় ২২ পয়েন্ট হারায় ডিএসই। তবে প্রথমবারের এ চাপ দ্রুতই সামলে নেয় বাজারটি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সূচকটি পৌঁছে যায় চার হাজার ৯৪৮ পয়েন্টে। তবে সূচকের এ অবস্থান থেকে ফের বিক্রয়চাপ সৃষ্টি হলে নি¤œমুখী হতে শুরু করে সূচক। দুপুর ১২টায় সূচকটি নেমে আসে চার হাজার ৯২৬ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে সূচকের অবনতি রেকর্ড করা হয় প্রায় ১৪ পয়েন্ট। এ পর্যায়ে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়লে আবারো ঊর্ধ্বমুখী হয় সূচকটি। বেলা ২টার পর ডিএসই সূচকটি দিনের সর্বোচ্চ চার হাজার ৯৫০ পয়েন্টে পৌঁছে যায়। কিন্তু দিনের সমন্বয়শেষে সূচকটি চার হাজর ৯৪২ দশমিক ০৫ পয়েন্টে স্থির হয়।

অপর দিকে, দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সবগুলো সূচকেরই কমবেশি অবনতি ঘটে গতকাল। সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই এদিন ১৬ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। বাজারটির বিশেষায়িত দুই সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৩৬ দশমিক ৮৭ ও ৮ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট।

সূচকের পতন সামলে নিলেও গতকাল বড় ধরনের অবনতি ঘটে ঢাকা শেয়ারবাজারের লেনদেনে। ডিএসই গতকাল ৩৫২ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিন অপেক্ষা ৬০ কোটি টাকা কম। রোববার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৪১২ কোটি টাকা। তবে এদিন লেনদেন বেড়েছে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে। রোববারের চার কোটি টাকার স্থলে গতকাল সিএসইর লেনদেন দাঁড়ায় সাত কোটি টাকা।

দিনের বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায় গতকাল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যান্য খাতগুলো আগের দিনের হারানো দরের একটি অংশ ফিরে পেয়েছে। তবে দিনের শুরুতে সবগুলো খাতেই কমবেশি পতন ঘটে। দিনের শেষভাগে বাজার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠলে বেশির ভাগ কোম্পানিই তাদের হারানো দর ফিরে পায়। তবে এ ক্ষেত্রে বীমা খাতকে এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। এ খাতের জীবন বীমা ও সাধারণ বীমা দুই বিভাগের কয়েকটি কোম্পানি ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নেয়। অন্য দিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দরপতন অব্যাহত ছিল গতকাল। এ খাতের কোম্পানিগুলোর বেশ কয়েকটি বরাবরের মতোই দিনের দরপতনের শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নেয় গতকাল।

ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেনের শীর্ষ স্থানটি গতকালও ওরিয়ন ইনফিউশনের দখলে ছিল। এদিন ১৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় কোম্পানিটির পাঁচ লাখ ৩৪ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়। ১৬ কোটি ২৬ লাখ টাকায় ৬৫ লাখ ২৩ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে সিটি ব্যাংক ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ফাইন ফুডস, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, লাভেলো আইসক্রিম ও সায়হাম কটন মিলস।

দিনের মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ কোম্পানি ছিল জীবন বীমা কোম্পানি চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির ৭ দশমিক ২২ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে গতকাল। ৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে এ তালিকয় দ্বিতীয় ছিল বেসরকারি খাতের সাধারণ বীমা কোম্পানি ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স। ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে মোজাফ্ফর হোসাইন স্পিনিং, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, পূবালী ব্যাংক, গ্রিনডেল্টা ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ইসলামী ব্যাংক, লাভেলো আইসক্রিম, ইসলামিক ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও নাহি অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট।

ডিএসইতে সোমবার দরপতনের শীর্ষে ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের দুই কোম্পানি প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। গতকাল ১০ শতাংশ দর হারায় এ দু’টি কোম্পানি। ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ দর হারিয়ে এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল একই খাতের ফারইস্ট ফিন্যান্স। ডিএসইতে দরপতনে শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে ইন্টারন্যাশনল লিজিং, আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড, এফএএস ফিন্যান্স, বিআইএফসি, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, অ্যাপোলো ইস্পাত ও সিএপিএম আইবিবিএল মিউচুয়্যাল ফান্ড।