নারী ফুটবলে আজ ইতিহাস গড়ার দিন

বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভিয়েতনাম

Printed Edition
khela-1
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে গতকাল অনুশীলনের সময় স্ট্রাইকার সাগরিকা ও মিডফিল্ডার উমেহেলা মারমা : বাফুফে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

এ নিয়ে চারবার নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলছে বাংলাদেশ। তিনটি বয়সভিত্তিক আসরে। একটি সিনিয়র নারী এশিয়ান কাপে। ২০১৭ ও ২০১৯ সালে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলে ফাইনাল রাউন্ডে বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বেই বিদায় নেয়। সিনিয়র নারী এশিয়ান কাপে এবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও একই কাহিনী। কোনো ম্যাচে জয়ের দেখা না পেয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই দেশে ফেরার বিমান ধরা। এখন থাইল্যান্ডে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবলে খেলছে বাংলাদেশ। আগের দুই ম্যাচে হেরে যাওয়া অর্পিতা বিশ্বাস, আফঈদা খন্দকার প্রান্তিদের সামনে এখনো নক আউটে খেলার সুযোগ। সে সাথে হাতছানি দিয়ে ডাকছে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ। এ জন্য আজ তাদের জিততে হবে। এরপর ১১ তারিখে কোয়ার্টার ফাইনালেও জয়ের দেখা পেতে হবে। তাহলেই এ বছর পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে খেলার ছাড়পত্র। তবে সবার আগে আজ পিটার বটলার বাহিনীকে জিততে হবে ভিয়েতনামের বিপক্ষে। তাহলে অনেকটাই নিশ্চিত হবে নক আউটে খেলা। জিতলে যেমন একটি ইতিহাস হবে। তেমনি কোয়ার্টারে উঠলেও আরেক রেকর্ড। কারণ নারী এশিয়ান ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে এখন পর্যন্ত কোনো জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। শেষ আটে বা নক আউটে উঠাতো দূরের কথা। আজ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটায় ভিয়েতনামের বিপক্ষে জিতলেই দুই অর্জন হবে বাংলাদেশের নারী ফুটবলে।

এবারের অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবলের ফরমেট অনুযায়ী তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে। সে সাথে তিন গ্রুপের তৃতীয় হওয়া তিন দলের মধ্যে সেরা দুইয়ে থাকা দুই দলেরও ঠিকানা হবে নক আউটে। এখন পর্যন্ত সেরা দুইয়ে থাকার দৌড়ে সবার উপরে বাংলাদেশ। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রুপের যে ছয়টি দল নিচের নিতে আছে তাদের কারোরই কোনো পয়েন্ট নেই। বাংলাদেশ- জর্দান ও ভিয়েতনাম ছাড়া অন্য দলের গোলও নেই। এই গোলেই এগিয়ে বাংলাদেশ। তারা ২ গোল দিয়ে ৫ গোল হজম করেছে। ফলে -৩ গোল পার্থক্য নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে চাইনিজ তাইপে ও উজবেকিস্তানের চেয়ে। ‘সি’ গ্রুপে চাইনিজ তাইপের গোল পার্থক্য -৭। আর ‘বি’ গ্রুপে উজবেকিস্তানের -৮। এ ছাড়া ভিয়েতনামের -৬ এবং জর্দানের -৯ এবং ভারতের -১১ গোল ব্যবধান। ফলে বাংলাদেশ যদি আজ ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ৩৭ এ থাকা ভিয়েতনামের বিপক্ষে জিততে পারে তাহলে তারা যেমন প্রথম জয় পাবে সে সাথে অনেকটা চলে যাবে নক আউটের পথে। উল্লেখ্য আগামীকাল ‘বি’ গ্রুপে উজবেকিস্তান ও জর্দানের ম্যাচ এবং ‘সি’ গ্রুপে ভারত ও চাইনিজ তাইপের খেলা।

বাংলাদেশ যদি আজ জেতে তাহলে কতো ব্যবধানে জিতলো এবং গোল পার্থক্য কতো হলো সেটাই হবে আগামীকাল অপর দুই ম্যাচে খেলা চার দলের বিবেচ্য। তবে বাংলাদেশ যদি আজ ড্র করে ভিয়েতনামের সাথে এবং আগামী কাল যদি উজবেকিস্তান ও জর্দান এবং ভারত ও চাইনিজ তাইপের ম্যাচ যদি গোলশূন্য ড্র হয় তাহলে আর কোনো যদি কিন্তু নয়। অর্পিতা বিশ^াস, সাগরিকারা গোল পার্থক্যের সুবিধা নিয়ে চলে যাবে নক আউটে। কারণ তখন সবার পয়েন্ট হবে ১ করে।

তবে বাংলাদেশ হেরে গেলে সব আশাই শেষ। তখন সৌরভী আকন্দ প্রীতিদের টপকে নক আউটের পথে এগিয়ে যাবে ভিয়েতনাম। ভিয়েতনাম আগের দুই ম্যাচে চীনের কাছে ০-৩ গোলে এবং থাইল্যান্ডের কাছে ১-৪ গোলে হেরেছিল। সেখানে বাংলাদেশ ০-২ গোলে চীনের কাছে এবং ২-৩ গোলে থাইল্যান্ডের কাছে হেরেছিল।

বাংলাদেশের এ সুবিধাজনক অবস্থানে আসাটা হয়েছে পরশু উত্তর কোরিয়া ৬-০ গোলে উজবেকিস্তানকে এবং জাপান ২-০তে চাইনিজ তাইপেকে হারানোর ফলে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া ২-১ গোলে জর্দানকে এবং অস্ট্রেলিয়া ৫-০ গোলে ভারতকে হারায়। কাল যদি ভারত জিতে যায় চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে এবং জর্দান যদি উজবেকদের বিপক্ষে জয়ের দেখা পায় তাহলে তারাও চলে আসবে শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে। অর্থাৎ নিচের দিকে থাকা ছয় দলেরই সুযোগ আছে কোয়ার্টারে ওঠার।

বাংলাদেশ এর আগে ২-১৮ সালে ঢাকায় এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের বাছাই পর্বে ভিয়েতনামকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল। যদিও ২০২৩ সালে ভিয়েতনাম এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলের দ্বিতীয় রাউন্ডে ৩-০তে হারিয়েছিল বাংলাদেশকে।