তিতাসে বিএনপির অফিস ভাঙচুর ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা
Printed Edition
তিতাস (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মারামারির জেরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে স্থানীয় বিএনপি অফিস ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মুকবুল হোসেন বাদি হয়ে প্রতিপক্ষ সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে এসহাক মোল্লা জুয়েলকে প্রধান আসামি করে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে তিতাস থানায় মামলা করেছেন। জানা যায়, মানিককান্দি গ্রামের আওয়ামী লীগের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লা গ্রুপ ও একই গ্রামের সাবেক মেম্বার সাইফুল ইসলাম-মোকাররম গ্রুপের মধ্যে হত্যা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের একাধিক মামলা বিচারাধীন। এরই জেরে গত ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি সেলিমা আহমাদ মেরীর অনুসারী সাইফুল মেম্বার গ্রুপের মোকাররম ও মকবুল হোসেনসহ একদল লোক বিএনপির নির্বাচনী কমিটি গঠন করে। সাংগঠনিক কাজ শেষে পার্শ্ববর্তী গ্রাম জগতপুর থেকে নিজ বাড়ি মানিককান্দি আশার পথে আবু মোল্লা গ্রুপের লোকজনের সাথে মারামারির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আবু মোল্লা গ্রুপের দুইজন আহত হন। খবর পেয়ে আবু মোল্লার ছেলে এসহাক মোল্লা জুয়েল লোকজন নিয়ে বিএনপির অফিস ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলার বাদি মকবুল হোসেন জানান, বিএনপির প্রার্থী সেলিম ভূইয়ার নির্বাচনী কেন্দ্র কমিটি গঠন করার জন্য আমি ও আমার বড় ভাই মোকাররম হোসেনসহ ৮-১০ জনের টিম ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী গ্রাম জগতপুরে যাই, সেখান থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে জগতপুর মাদরাসার কাছে এলে আবু মোল্লা গ্রুপের শাকিল নামে এক যুবক আমার বড় ভাই মোকাররমকে হাত-পা কেটে ফেলার হুমকি দেয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয়। ওখান থেকে দৌড়ে গিয়ে আবু মোল্লার ছেলে এসহাক মোল্লা ও আশিকের নেতৃত্বে আমাদের বিএনপি অফিসের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনার আমি বাদি হয়ে থানায় মামলা করেছি।
অভিযুক্ত এসহাক মোল্লা জুয়েল বলেন, ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আমাদের লোকজন চটপটি খেতে চকের বাড়ির সামনের দোকানে গেলে মোকাররম ও তার লোকজন তাদের মারধর করে। এ সময় আমাদের দুইজন আহত হন। তারা তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে আমাদের বিরুদ্ধে বিএনপির অফিস ভাঙচুর করার অভিযোগ তুলছে। এ ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।
তিতাস থানা ওসি আরিফ হোসেন বলেন, দুই পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি। আমরা অধিকতর তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।