ধামরাইয়ে কৃষ্ণনগর ২০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা বন্ধ
Printed Edition
নবীন চৌধুরী ধামরাই (ঢাকা)
ঢাকার ধামরাই উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর এলাকায় অবস্থিত ২০ শয্যা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক সঙ্কট ও কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে চিকিৎসাসেবা কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সের রোগী হাসপাতালে এসে চিকিৎসা ও ওষুধ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক সময় বেলা ১১টার পর হাসপাতালের মূল ফটক খোলা হলেও চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহও অনিয়মিত। এতে করে প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
সরেজমিন জানা যায়, ২০০৬ সালে প্রায় ৪ একর জমির ওপর সরকারি অর্থায়নে আধুনিক মানের ২০ শয্যার এ হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়। হাসপাতালের মূল ভবনের পাশাপাশি চিকিৎসকদের আবাসিক ভবন, গ্যারেজ, পানির পাম্প ও বিদ্যুৎ সংযোগসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করা হলেও দীর্ঘ সাড়ে ১৪ বছরেও পূর্ণাঙ্গ সেবা কার্যক্রম চালু হয়নি। বর্তমানে অধিকাংশ সময় হাসপাতালটি তালাবদ্ধ থাকে। এতে ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে নষ্ট হচ্ছে এবং মূল্যবান সরঞ্জাম অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
জমিদাতাদের একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এলাকার মানুষের চিকিৎসা সুবিধার কথা ভেবে নামমাত্র দামে ৫৫ শতাংশ জমি দিয়েছিলাম। কিন্তু আজও সেই সুফল পাইনি। এখন তো চিকিৎসাসেবাই বন্ধ।’ তিনি আরো বলেন, হাসপাতালের বদলে অন্য কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান হলে অন্তত এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হতো।
কৃষ্ণনগর গ্রামের বাসিন্দা শফিজুদ্দিন জানান, গত ছয় মাস ধরে মাঝে মধ্যে দু’জন নার্স এলেও কোনো চিকিৎসক নিয়মিত আসছেন না। এতে রোগীরা প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) আহমেদুল হক তিতাস বলেন, ‘বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সব চিকিৎসককে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ কারণে আপাতত কৃষ্ণনগর ২০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় জনবল দিয়ে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা না হলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সঙ্কট আরো প্রকট আকার ধারণ করবে। তারা অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।