দগ্ধ সন্তানদের ছুঁয়ে দেখার আকুতি
Printed Edition
নামাজের পাটিতে সেজদায় রয়েছেন এক মা। দুই হাত তুলে সন্তানের প্রাণ ভিক্ষা চাইছেন একজন। হাতের মধ্যে ছোট্ট কুরআন শরীফ পাঠ করে দুই চোখের পানিতে গাল ভাসিয়ে দিচ্ছেন অপর মা। কোনো এক মা আবার ফোনে আত্মীয়দের কাছে সন্তানের শেষ খবরটা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। এভাবেই কাটছে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাষ্টিক ইনস্টিটিউটের আইসিইউর সামনে আহতদের মা-বাবাদের অস্থির সময়। বাবাদের মধ্যে কেউ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন উপরের দিকে। কেউ উন্নত চিকিৎসার জন্য সন্তানকে বিদেশ নেয়ার পরিকল্পনা করছেন।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বার্ণ ইনস্টিটিউটের আইসিইউ’র সামনে গিয়ে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। সকাল বেলা আদরের সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়েছিলেন এসব মা-বাবা। স্কুল শেষে যে সন্তানের থাকার কথা মায়ের কাছে সেই সন্তান তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করছে হাসপাতালের বিছানায়। এমন যন্ত্রণার সময় শিশুর চোখ দুটো স্বাভাবিকভাবে মাকেই কাছে পেতে ব্যাকুল হয়ে ওঠে। অথচ আইসিইউ’র গেটের বাইরে থাকলেও সেই মা আদরের সন্তানকে বুকে জড়াতে পারছেন না। আগুনে শরীর ঝলসে যাওয়ায় মমতাময়ী মা তার হাতটিও বুলাতে পারছেন না সন্তানের কপালে। ভয়াবহ এক মানসিক যন্ত্রণায় বুক ফাটা কান্না নিয়ে সন্তানের সুস্থতার জন্য আকুতি জানাচ্ছেন আল্লাহর দরবারে। বিলাপ করে বলছিলেন, সন্তান সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় শেষ কী কথা হয়েছিল তার সাথে, আগুনে পোড়ার সময় কলিজার টুকরার কেমন লেগেছিল। সে তো নিশ্চয়ই তখন মা মা বলে চিৎকার করছিল। কিন্তু অভাগা মাকে কোথাও পায়নি। এখন মাকে দূর থেকে দেখতে পারলেও জড়িয়ে ধরতে পারছে না।
আইসিইউ’র সামনে বড় বড় দুটি ভিজিটর রুম রয়েছে। তার সামনে বেশ বড় খালি জায়গা। এখানে বিশাল আকারের দুটি দরজা দিয়ে তৈরি হয়েছে আইসিইউ’র প্রবেশদ্বার। এই দরজার সামনেই টুল নিয়ে বসে থাকেন আনসার সদস্য। তারা প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন না। পোড়া রুগীর শরীরে ক্ষত থাকায় বাইরের জীবাণুু গেলে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আনসার সদস্য ছাড়াও হাসপাতালের প্রবেশ পথে অনেক স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ দেয়া হয়েছে যাতে বহিরাগত কেউ রোগী বা তাদের স্বজনদের বিরক্ত করতে না পারে।