রায়পুরে এক যুগ ধরে চিকিৎসকশূন্য দুই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র
Printed Edition
হারুনুর রশিদ রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দুটি ইউনিয়নের দুইটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র দীর্ঘ একযুগ ধরে চিকিৎসকশূন্য রয়েছে। এতে করে এলাকার সাধারণ মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং বাড়ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর চাপ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ১নং চরআবাবিল ইউনিয়নের হায়দারগঞ্জ বাজার ও ৭নং বামনী ইউনিয়নের সাইচা গ্রামে অবস্থিত দু’টি উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের পদ থাকলেও প্রায় ১১-১২ বছর ধরে তা শূন্য। বর্তমানে সপ্তাহে মাত্র একদিন এমবিবিএস চিকিৎসক এসে সেবা দেন, বাকি দিনগুলোতে সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (সেকমো) দিয়ে চিকিৎসাসেবা চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, এতে করে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে দূরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটছেন। বামনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাফাজ্জল হোসেন মুন্সী বলেন, কয়েক বছর আগে অল্প সময়ের জন্য একজন চিকিৎসক ছিলেন, এরপর আর কেউ আসেননি। ফলে মানুষ ভালো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
উপকূলীয় এসব এলাকার উদমারা, চরবংশী, খাশেরহাট, চরভৈরবীসহ আশপাশের অন্তত তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ৮৬ হাজারের বেশি মানুষ এই কেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। হায়দারগঞ্জ উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মানস দে বলেন, প্রতিদিন ৫০-৬০ জন রোগী আসে। চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্ট না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিক হোসেন জানান, ডাক্তার না পেয়ে ১০-১২ কিলোমিটার দূরের হাসপাতালে যেতে হয়, এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ে।
চরআবাবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাফর উল্লাহ দুলাল বলেন, দীর্ঘদিন চিকিৎসক না থাকায় মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: বাহরুল আলম জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং চিকিৎসক নিয়োগের জন্য নিয়মিত প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে।