রানার্স আপ হকির বাঘিনীরা এশিয়ান গেমস কোয়ালিফাইং

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

লাল-সবুজের পতাকা বুকে নিয়ে ইতিহাসের পথে হাঁটা শুরু করেছিল বাংলাদেশ নারী হকি দল। প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে অংশ নিয়েই তারা দেখিয়ে দিল স্বপ্ন দেখার সাহস থাকলে অসম্ভব বলে কিছু নেই। ফাইনালে চায়নিজ তাইপের কাছে ৩-১ গোলে হার হয়তো স্কোরবোর্ডে পরাজয়; কিন্তু এই হার কোনোভাবেই তাদের লড়াইকে মøান করতে পারে না। কারণ এর আগেই তারা নিশ্চিত করেছে এশিয়ান গেমসের মূল পর্বে- যা নিজেই এক বিশাল অর্জন। শিরোপা ছুঁয়ে দেখা হয়নি- এই যা পার্থক্য।

উদ্বোধনী ম্যাচে তাইপের সাথে ৫-৫ গোলের রোমাঞ্চকর ড্র থেকে শুরু করে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে মেয়েদের দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাস আর জয়ের ক্ষুধা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিটি স্টিকে, প্রতিটি দৌড়ে, প্রতিটি আক্রমণে ছিল দেশের জন্য কিছু করে দেখানোর অদম্য তাড়না। তারা প্রমাণ করেছে সুযোগ পেলে, পরিচর্যা পেলে, বাংলাদেশ নারী হকি বিশ্বমঞ্চেও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।

এখন প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, যতœ আর বিনিয়োগ। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন ও সরকারের দায়িত্ব এই প্রতিভাগুলোকে আগলে রাখা, তাদের স্বপ্নকে বাস্তবের আলোয় নিয়ে আসা। কারণ এই মেয়েরাই ভবিষ্যৎ। তাদের হাত ধরেই এক দিন বাংলাদেশের হকি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

এশিয়ান গেমস কোয়ালিফাইংয়ের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ-চাইনিজ তাইপে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শেষ পর্র্যন্ত ৫-৫ গোলে ড্র হয়েছিল ম্যাচটি। সিনিয়র দলের প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই নজর কাড়ে লাল-সবুজের হকি দল। তারপর তো একে একে ধরাশায়ী উজবেকিস্তান, সিঙ্গাপুর ও স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া। বাংলাদেশের বড় শক্তি ছিল টিম বন্ডিং। তা ছাড়া প্রথম ম্যাচে যেহেতু ড্র করা গেছে সেহেতু শিরোপা মঞ্চেও ভালো কিছু হবে। সে আশাতেই ফাইনালের মঞ্চে ৮ মিনিটেই পিসি থেকে অর্পিতা পালের গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ (১-০)।

দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শুরুতেই ১৭ মিনিটে ওয়াং ইউ-চিউর ফিল্ড গোলে সমতায় ফেরে তাইপে (১-১)। তৃতীয় কোয়ার্টারের শুরুতে ৩২ মিনিটে মাও হসুয়ানের গোলে লিড পায় তাইপে (১-২)। ৪০ মিনিটে বাংলাদেশকে অস্বাস্থিতে ফেলে গোল আদায় করে নেন হুয়াং ইউ-টিং (১-৩)। তখনি মূলত শিরোপা থেকে দূরে সরে যায় অর্পিতা পাল বাহিনী। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে যে পিসি নিয়ে গর্ব করতো বাংলাদেশের নারীরা। ফাইনালে সেই পিসিগুলোর হিটগুলো-সø্যাপগুলো-ফ্লিকগুলো কেমন করে যেন স্টিকের কথা শুনছিল না। যে কারণে শেষ কোয়ার্টারের ১৫ মিনিট জয়ের অদম্য ইচ্ছে থাকা সত্বেও সর্বশক্তি দিয়েও কুলোতে পারেনি বাংলাদেশ। অথচ উদ্বোধনী ম্যাচে এই তাইপের বিপক্ষে ৫ গোলের চারটিই ছিল পেনাল্টি কর্নার থেকে। অবশেষে ফাইনালে তাইপের কাছে ৩-১ গোলে হেরে রানার্স আপ হয় হকির বাঘিনীরা।

উজবেকিস্তানের দেমিনা মারিয়া ও বাংলাদেশের আইরিন আক্তার রিয়ারও ৫ গোল দিয়ে পেলেন সর্বেচ্চ গোলদাতার পুরস্কার।