ভারতের সাথে কার্যকর সম্পর্ক চাই : হুমায়ুন কবির
Printed Edition
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
ভারতের সাথে বাংলাদেশ একটি ভালো কার্যকর সম্পর্ক চায় উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, সেই সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে প্রথমে একটি দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়াই ভালো। কোনো দেশের সাথে কার্যকর সম্পর্ক সৃষ্টি করার জন্য আমরা বহুপক্ষীয় ফোরামে বৈঠক করি না।
গতকাল রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। হুমায়ুন কবির জানান, জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণের পাশাপাশি তিনি সাইডলাইনে রোহিঙ্গাবিষয়ক একটি বৈঠক করবেন।
সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হবে কিনা, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারত নিয়ে ফেসিনেশন থেকে বের হয়ে আসুন। ভারত কেবল আরেকটি প্রতিবেশী দেশ, যার সাথে আমরা ভালো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চাই। সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার- সব সময় খালি ভারতের কথা ভাবলে চলবে না। নিজের দেশের কথা ভাবুন। যার সাথে যখন দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় কথা বলা দরকার, আমরা অবশ্যই তা বলব। কিন্তু সাইডলাইনে সবার সাথে তো আর দেখা করা সম্ভব না।
আগামী জানুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচন রয়েছে। সম্প্রতি এই পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ। সেখানে বাংলাদেশ নতুন কোনো প্রার্থী দেবে কিনা- প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন কবির বলেন, ওই পদে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নিয়োগটি ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক ও বিতর্কিত। এমন একটি উচ্চপর্যায়ের পদের জন্য তার প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা কিছুই ছিল না। স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে জালিয়াতি, তথ্য গোপন ও প্রভাব খাটিয়ে তাকে ওই পদে বসানো হয়েছিল। শেখ হাসিনার পুরো পরিবারের দুর্নীতি ও জালিয়াতির খবর এখন একটির পর একটি সামনে আসছে। সুতরাং পুতুলের নিয়োগ নিয়ে তদন্ত হওয়া মোটেও বিস্ময়কর নয়।
ভবিষ্যতে সঠিক যোগ্যতাসম্পন্ন কোনো প্রার্থীকে বাংলাদেশ সমর্থন দেবে উল্লেখ করে হুমায়্নু কবির বলেন, মালদ্বীপের প্রার্থীর কথা ভাবা যেতে পারে, যার ভালো ট্র্যাক রেকর্ড ও যোগ্যতা রয়েছে। আশা করি, অদূর ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি দক্ষ নেতৃত্বে পরিচালিত হবে।
ভারতের সাথে সম্পাদিত ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে চিফ হুইপ যে তথ্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওগুলো সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এটি চিফ হুইপের আওতাধীন বিষয়, তিনিই এই বিষয়ে সঠিক উত্তর দিতে পারবেন।