যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ায় বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নে বড় ঘাটতির আশঙ্কা
Printed Edition
এএফপি
বৈশ্বিক জলবায়ু অঙ্গীকার থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সরে আসার সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এতে তৈরি হওয়া বিশাল অর্থায়ন ঘাটতি অন্য কোনো দেশের সরকার বা বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা পূরণ করতে পারবে না বলে সতর্ক করেছেন একজন জ্যেষ্ঠ জলবায়ু নীতি বিশেষজ্ঞ।
স্টকহোম এনভায়রনমেন্ট ইনস্টিটিউটের যুক্তরাষ্ট্র কার্যালয়ের পরিচালক এড কার আনাদোলু এজেন্সিকে জানান, প্যারিস চুক্তি থেকে ওয়াশিংটনের সরে আসা এবং জলবায়ু কর্মসূচিতে ব্যাপক কাটছাঁট বহুপক্ষীয় ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে জলবায়ু কার্যক্রমের অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ভূমিকা ছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা এ খাতে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করবে না, যা বিশাল এক শূন্যতা তৈরি করবে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার জলবায়ু পরিবর্তনকে ‘ধোঁকাবাজি’ ও ‘প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ক্ষমতায় ফিরে আসার পরপরই তিনি আন্তর্জাতিক জলবায়ু কাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ বন্ধ করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেন। গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তিনি প্যারিস চুক্তি থেকে সরে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেন, যা চলতি মাসে কার্যকর হয়েছে। এরপর প্রশাসন আরো কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে সরে দাঁড়িয়েছে, যা বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়ন ও বৈজ্ঞানিক সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের অবদানকে সঙ্কুুচিত করেছে।
এড কার জানান, জাতিসঙ্ঘের ভেতরেও এর প্রভাব দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) কর্মী সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি জাতিসঙ্ঘের পরিবেশ কর্মসূচিতেও (ইউএনইপি) কর্মী ছাঁটাই এবং জলবায়ুসংক্রান্ত কার্যক্রম সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
বেসরকারি খাত ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো লাভজনক এবং টেকসই বিনিয়োগের মাধ্যমে এগিয়ে আসার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের ঘাটতি পূরণ এবং প্রশমন ও অভিযোজন প্রচেষ্টায় সহায়তার লক্ষ্যে তারা কাজ করছে। তবে এড কার সতর্ক করে বলেন, ‘সরকারি অর্থায়নের বিশাল ঘাটতি তারা পূরণ করতে পারবে, এমন ধারণা করা ঠিক হবে না।’ তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসার ফলে যে বিপর্যয় তৈরি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি খাতের ওপর অতিরিক্ত প্রত্যাশা করাটা অতিশয় আশাবাদ হতে পারে।
জলবায়ু বিজ্ঞানের প্রতি প্রশাসনের বৈরী মনোভাব এবং ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের (আইপিসিসি) সাথে সম্পর্কের অবনতির কথাও উল্লেখ করেন কার। তিনি বলেন, জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে আসার পর সরকার কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত মার্কিন বিজ্ঞানীদের আইপিসিসির সভায় যোগ না দেয়ার নির্দেশ দিতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি প্যানেলের বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।