রানীনগরে পরীক্ষামূলক পান চাষে সফল শহিদুল

Printed Edition

কাজী আনিছুর রহমান রানীনগর (নওগাঁ)

ধান উৎপাদনের জন্য পরিচিত নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় এবার নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছেন কৃষক শহিদুল ইসলাম। প্রচলিত ধান ও সবজি চাষের পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে তিনি পান চাষ শুরু করে ইতোমধ্যে সাফল্যের মুখ দেখেছেন। তার এই উদ্যোগ এলাকায় অন্য কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে।

উপজেলার একডালা ইউনিয়নের টং গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম (৪৫) প্রায় এক বছর আগে নিজের পৈতৃক সাত শতক জমিতে পানের বরজ গড়ে তোলেন। শুরুতে অনেকে বিষয়টিকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলেও এখন তার বরজে নিয়মিত ফলন হচ্ছে। তিনি জানান, এক বছরেই প্রায় ছয়বার পান তুলে বাজারে বিক্রি করেছেন তিনি। এতে ভালো লাভ হওয়ায় আগামীতে আরো জমিতে পান চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ধানের পাশাপাশি লাভজনক ফসল হিসেবে পান চাষ শুরু করেছি। প্রথম চার মাস পর বরজ থেকে প্রায় ১৫ হাজার টাকার পান বিক্রি করি। এখন প্রতি ১৫ দিন পরপর প্রায় ১৪ হাজার টাকার পান বিক্রি করছি। বাজারে আমার পানের আলাদা চাহিদা আছে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে শহিদুলের ছেলে ইমনের বিয়ে হয় রাজশাহীর বানেশ্বর এলাকায়। সেখানে যাতায়াতের সুবাদে পান চাষ দেখে আগ্রহী হন তিনি। পরে ছেলের শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের পরামর্শ ও সহযোগিতায় নিজ এলাকায় পান চাষ শুরু করেন শহিদুল। বরজে কোনো রোগবালাই দেখা দিলে তাদের কাছ থেকেই প্রয়োজনীয় পরামর্শ নেন।

শহিদুলের দাবি, বছরে এ জমি থেকে প্রায় ৯০ হাজার টাকার পান বিক্রির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকারি সহায়তা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ পেলে তিনি আরো বড় পরিসরে পান চাষ করতে চান।

এদিকে এলাকায় অনেক উদ্যমী কৃষক শহিদুলের বরজ দেখতে আসেন। এসে তারাও পান চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। কিন্তু এখনো স্থানীয় কৃষি বিভাগের কেউ সরেজমিন শহিদুলের বরজ দেখতে আসেননি। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিষয়টি জানার পর সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

রানীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোস্তাকিমা খাতুন বলেন, ‘উপজেলায় পানের বরজ রয়েছে, বিষয়টি আগে জানা ছিল না। এটি অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ। আমি নিজে বরজ পরিদর্শনে যাব এবং কৃষককে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করব।’

কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, রানীনগরে পান চাষের প্রচলন না থাকলেও শহিদুল ইসলামের মতো প্রগতিশীল কৃষকেরা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছেন। সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে এ অঞ্চলে পান চাষ বিকল্প আয়ের উৎস হতে পারে। ধানের জনপদে শহিদুল ইসলামের এই উদ্যোগ এখন অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার নাম।