যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো গোপন চুক্তি নেই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Printed Edition

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের কোনো গোপন চুক্তি নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সই হওয়া বাণিজ্য চুক্তি প্রকাশ করা হয়েছে। রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির ব্যাপারে সব দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এখন রাশিয়া থেকে আমাদের জ্বালানি আমদানি করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ছাড় পেতে হবে। এর সাথে বাণিজ্য চুক্তির কোনো সম্পর্ক নেই।

গতকাল রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসনের সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এতে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, বিশেষ করে জ্বালানি, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে সাধারণ আলোচনা হয়েছে। একই সাথে রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের এই সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ছাড়ের বিষয়টি এই সাক্ষাতের সময় আলোচনায় আসেনি বলে জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দফতরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে তার সাম্প্রতিক আলোচনা প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান বলেন, আলোচনার কিছু বিষয়ে গোপনীয়তার কারণে এই মুহূর্তে প্রকাশ করা না গেলেও, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ জন্য বিশ্ববাজারে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ও সাশ্রয়ী উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা করছে। ভারত, মধ্যপ্রাচ্য কিংবা যুক্তরাষ্ট্র- সব বিকল্পই সরকারের জন্য খোলা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বিদেশ সফর নিয়ে জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সফরের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম চূড়ান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করে হোয়াইট হাউজের একটি রেপ্লিকা এবং দু’টি আলোকচিত্র উপহার দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। ছবিগুলোর একটিতে আছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম জিয়াউর রহমান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। অন্য ছবিটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম খালেদা জিয়া ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান আতিকুর রহমান রুমন।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেলে হোয়াইট হাউজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়। আর খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরের বছর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান। হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের (সিনিয়র বুশ) সাথে তার বৈঠক হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বৈঠক সম্পর্কে মার্কিন দূতাবাসের ফেসবুক পেইজে দেয়া এক পোস্টে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণে আমাদের অভিন্ন লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে একসাথে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।