অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরামের সংবাদ সম্মেলন

অভিযুক্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অবিলম্বে অব্যাহতির দাবি

Printed Edition
back-2
জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরাম নেতারা : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনের সাথে জড়িত যেসব কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার দাবি জানিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরাম। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরামের এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা তুলে ধরেন সংগঠনের সদস্যসচিব ও সাবেক সচিব প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরিফুল আলম।

তিনি বলেন, বেশ কিছু রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রার্থিতা বাছাইসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে বেশ কিছু প্রার্থী সংক্ষুব্ধ হয়েছেন। অনেকে দাবি করছেন রিটার্নিং অফিসাররা নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারছেন না। সনাতন গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে, যা আমাদেরকে উদ্বিগ্ন করেছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রার্থিতা বাছাইপর্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। যদিও এটি প্রারম্ভিক ধাপ, তবে এ ধাপে যদি নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখোমুখি হয় তাহলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার অন্যান্য ধাপে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করা শুধু কঠিন হবে না, বাস্তবে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা দুরূহ হবে। প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারালে প্রভাবশালী দল এবং তাদের প্রার্থীগণ প্রশাসনকে সহজে প্রভাবিত করবে। অতীতে আমরা এটি বিভিন্ন নির্বাচনে দেখেছি।

তিনি আরো বলেন, প্রার্থিতা বাছাইপর্বে যেসব সমালোচনা এসেছে আমরা আশা করি নির্বাচন কমিশন সেগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে আমলে নিবে। নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে যে নির্বাচনের সব প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হচ্ছে এবং জনগণ নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমকে বিশ্বাস করছে। যেসব রিটার্নিং অফিসারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে সেসব কর্মকর্তার পক্ষপাতিত্বপূর্ণ আচরণ আমলে নিয়ে তদন্ত করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ নির্ভর করে আইন প্রয়োগকারীর প্রসারিত নৈতিক চেতনা ও প্রতিশ্রুতির ওপর; কোনো টেকনিক্যাল ব্যাখ্যার ওপর নয়। অনেকের প্রার্থিতা টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা দিয়ে বাতিল করা হয়েছে, যার কারণে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বেশি হয়েছে।

এ সময় সংগঠনটি নির্বাচন কমিশনের সামনে কিছু দাবি পেশ করে জানায়, নির্বাচনের সাথে জড়িত যেসব রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তাদেরকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনী আইন প্রয়োগে পক্ষপাতহীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে কঠোর হতে হবে। ভোট কারচুপিরোধ ও অন্যান্য অনিয়ম রোধে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে সিসি টিভি ক্যামেরা লাগাতে হবে।

নির্বাচন কমিশনসহ নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট সবার নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিতে নির্বাচন কমিশন নির্দেশ প্রদান করবে। প্রয়োজনে এ বিষয়ে শিগগিরই একটি স্বতন্ত্র গাইডলাইন প্রকাশ করবে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যে কারো বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ উত্থাপন হলে তদন্ত সাপেক্ষে সাথে সাথে তাকে তার কর্মস্থলে থেকে প্রত্যাহার করতে হবে এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কাজ থেকে বিরত করতে হবে। পরবর্তীতে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রমোশনের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। অভিযুক্তদের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনে চাকরিচ্যুত করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনকে কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশন অফিস, বিভাগীয় কমিশনার অফিস, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ‘অভিযোগ বক্স’ রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জনসাধারণসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দুই-তিন দিন পরপর ব্রিফিং করবে। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সরকারের অঙ্গীকার নিশ্চিত করার স্বার্থে সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলী, বিশেষ সহকারীবৃন্দ এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত অন্যান্য শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিতে হবে যে, তারা পরবর্তী সরকারের অংশ হবে না। এ জন্য সরকারকে এখনই প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।

নির্বাচনকালে যারা জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পুলিশ সুপার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, তাদেরকে নির্বাচন সমাপ্ত হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে লটারির মাধ্যমে অন্য কর্মস্থলে আবশ্যিকভাবে বদলি করতে হবে। এ জন্য এখনই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরামের সভাপতি এবং সাবেক সচিব আব্দুল কাইয়ুম, সাবেক সচিব মোতাহার হোসেন, সাবেক সচিব রেজাউল করিম, সাবেক অতিরিক্ত সচিব আবদুল কাইয়ুমসহ সাবেক সচিব।