নতুন খেলোয়াড় নেবে না আবাহনী

Printed Edition

রফিকুল হায়দার ফরহাদ

লিগের প্রথম পর্ব শেষে ঢাকা আবাহনীর অবস্থান ৫ নম্বরে। ভাণ্ডারে ১৩ পয়েন্ট। শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংস ও ফর্টিস এফসির চেয়ে পিছিয়ে ৫ পয়েন্টে। এরপরও শিরোপার আশা ছাড়ছে না আকাশি-নীল শিবির। ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপুর মতে, ‘৫ পয়েন্টের গ্যাপ কোনো বিষয়ই নয়। দুই ম্যাচেই পাল্টে যেতে পারে চিত্র।’ তবে এই চিত্র পাল্টানোর জন্য নতুন করে কোনো ফুটবলারই নিচ্ছে না দর্শকপ্রিয় দলটি। পুরনো যারা আছে তাতেই ভরসা। জানান ম্যানেজার। বসুন্ধরা কিংস সূত্রে জানা গেছে তারাও আর নতুন করে খেলোয়াড় নেবে না। বরং ক্যাম্পে থাকা ৩৬ ফুটবলারের মধ্যে ছয়জনকে ছেড়ে দেবে।

এবারের লিগে দলটির মাঝের দিকে অবস্থানের জন্য রুপু দায়ী করলেন গোল মিস আর শেষ সময়ে গোল হজমকে। তার মতে, গোল মিস, পেনাল্টি মিস এসবই আমাদের এই পরিস্থিতির মুখে ফেলেছে। বসুন্ধরা কিংসের সাথে পেনাল্টি মিস করায় জিততে পারিনি। পিডব্লিউডির বিপক্ষে ইনজুরি টাইমের শেষ সময়ে গোল হজম করে ড্র করতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের ডিফেন্ডার বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে বিপক্ষ খেলোয়াড়ের পায়ে বল জমা দেন। আর তাতেই গোল। ফলে জেতা ম্যাচটি ড্র হয়েছে। তার মতে, আমরা এবারের লিগে প্রচার মিস করেছি। এই মিসগুলো আমাদের ভুগিয়েছে।

বসুন্ধরা কিংসের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করেছিলেন সোলেমান দিয়াবাতে। তিনি সেই ম্যাচে প্রথম পেনাল্টিতে গোল করলেও পরের পেনাল্টিতে ব্যর্থ। তার শট বাম দিকে শরীর ফেলে রুখে দেন গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো। এতেই সেই ম্যাচে হার এড়াতে সক্ষম হয় বসুন্ধরা কিংস। অবশ্য এরপরও মালির এই সোলেমান দিয়াবাতের ওপর সন্তুষ্ট আবাহনীর কর্মকর্তারা। রুপুর মতে, সোলেমানতো প্রথম পর্বে ৮ গোল দিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা।

দলের এই সমস্যার মধ্যে যোগ হয়েছে ইনজুরি। ফরোয়ার্ড জাফর ইকবাল ইনজুরিতে। তাই সুস্থ হওয়ার জন্য বাড়ি ফিরে গেছেন। গোলরক্ষক পাপ্পু হোসেনও ক্যাম্পে নেই। এর মধ্যে ক্লাব খবর পেয়েছে জাফর এই ছুটিতে খ্যাপ খেলে বেড়াচ্ছেন। রুপু জানান, আমরা শুনেছি জাফর খ্যাপ খেলে বেড়াচ্ছে। এমন ছবিও দেখেছি। পাপ্পুও নেই ক্যাম্পে। আমরা তাদের চিঠি দিয়েছি। চিঠির জবাবও তারা দিয়েছে। বলেছে ক্যাম্পে আসবে। তবে এখন পর্যন্ত আসেনি।

ফর্টিস এফসির সাথে যৌথভাবে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে বসুন্ধরা কিংস। তবে গোলে এগিয়ে সাবেক ট্রেবল জয়ীরা। বসুন্ধরা কিংসের দুই খেলোয়াড় ফিনল্যান্ড প্রবাসী তারিক কাজী এবং ইংল্যান্ড প্রবাসী কিউবা মিচেল চলে গেছেন। তা বেতন না পেয়ে। এদের মধ্যে ডিফেন্ডার তারিক কাজীর অভাবটা বেশি ভোগাচ্ছে দলটিকে। অবশ্য এরপরও তারা নতুন কোনো খেলোয়াড় নিচ্ছে না। এটা আর্থিক দুরবস্থার কারণেই। নতুন খেলোয়াড় নেয়ার বদলে তারা ক্যাম্পে থাকা ছয় ফুটবলারকে ছেড়ে দিচ্ছে। এই খেলোয়াড়দের অবশ্য খেলানো হয় না। এই প্রসঙ্গে ক্লাব সভাপতি ইমরুল হাসানকে ফোন দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।